ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 2528

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-১ আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সহিংস হামলায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুবদল নেতাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পবিত্র শবে বরাতের রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত আমির হোসেন (২৩) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বামুয়াহাটিস্থ বাঁশের মেলার পাশে অবস্থানকালে আমির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, যুবদল নেতা মো. কামাল (৪৫) হামলায় নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে মো. আতিক (৩৫), মো. মজনু (৫০), মো. সাকিব (২২), মো. সাকিল (২১), মো. রাব্বি (২২), মো. জন (২০), মো. বায়েজিত (২১), মো. পারভেজ (১৯) ও মো. ইব্রাহীম (১৯) অংশ নেন। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জন হামলাকারী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ টাকাসহ নারী আটক

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমির হোসেনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি মো. কামাল ধারালো দা দিয়ে তার মাথার পেছনে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যরা ছুরি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত আমির হোসেনকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৫৬, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তিনি আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”

এদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. কামাল বা তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি বাগমারা বাজার থেকে শুরু হয়ে নবাবগঞ্জ গোলচত্বর ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

নবাবগঞ্জে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে হামলা, জামায়াত কর্মী গুরুতর আহত

আপডেট সময় ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-১ আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সহিংস হামলায় জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুবদল নেতাকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পবিত্র শবে বরাতের রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত আমির হোসেন (২৩) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বামুয়াহাটিস্থ বাঁশের মেলার পাশে অবস্থানকালে আমির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, যুবদল নেতা মো. কামাল (৪৫) হামলায় নেতৃত্ব দেন। তার সঙ্গে মো. আতিক (৩৫), মো. মজনু (৫০), মো. সাকিব (২২), মো. সাকিল (২১), মো. রাব্বি (২২), মো. জন (২০), মো. বায়েজিত (২১), মো. পারভেজ (১৯) ও মো. ইব্রাহীম (১৯) অংশ নেন। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জন হামলাকারী ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি কাটায় ৮ জনের কারাদণ্ড

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমির হোসেনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি মো. কামাল ধারালো দা দিয়ে তার মাথার পেছনে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যরা ছুরি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত আমির হোসেনকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৫৬, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, তিনি আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে গেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”

এদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. কামাল বা তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি বাগমারা বাজার থেকে শুরু হয়ে নবাবগঞ্জ গোলচত্বর ঘুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।