ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

সমুদ্রে খাদ্যপণ্য আটকে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে ১৩ জাহাজে জরিমানা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 1725

ছবি সংগৃহীত

 

খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পণ্য খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করায় ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এসব জাহাজ থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, পণ্য গুদামজাত করে রাখার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ কাজে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুন  ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে অভিযোগ: কাল রাজধানীতে জামায়াত জোটের সমাবেশ ও মিছিল

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে ৩৬টি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ ৭৪টি। গত বছর রমজান মাসে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি, তবে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে।

হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে লাইটারেজ জাহাজের চাহিদা বাড়লেও বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটারেজ জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নওয়াপাড়ার ভৈরব নদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ১৭ দিনে মোট ৪০৯টি লাইটারেজ জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি জাহাজ ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত অধিকাংশ ঘাটে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারি থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও জাহাজ বরাদ্দ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।

তবে কিছু ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। এ সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানায়, লাইটারেজ জাহাজের সংকট পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান এবং ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সমুদ্রে খাদ্যপণ্য আটকে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে ১৩ জাহাজে জরিমানা

আপডেট সময় ১১:৩৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পণ্য খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করায় ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এসব জাহাজ থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, পণ্য গুদামজাত করে রাখার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ কাজে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় একদিনে ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত, ‘ত্রাণকেন্দ্র’ ঘিরে মৃত্যুফাঁদের অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে ৩৬টি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ ৭৪টি। গত বছর রমজান মাসে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি, তবে চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে।

হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে লাইটারেজ জাহাজের চাহিদা বাড়লেও বর্তমানে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটারেজ জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী, ঢাকার বুড়িগঙ্গা, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এবং যশোরের নওয়াপাড়ার ভৈরব নদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ১৭ দিনে মোট ৪০৯টি লাইটারেজ জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি জাহাজ ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত অধিকাংশ ঘাটে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস কার্যক্রম চলছে। গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারি থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও জাহাজ বরাদ্দ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত হবে।

তবে কিছু ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। এ সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানায়, লাইটারেজ জাহাজের সংকট পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান এবং ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।