০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কঙ্গোতে কোল্টান খনি ধসে নিহত ২০০ জনেরও বেশি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 50

ছবি: সংগৃহীত

 

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে একটি কোল্টান খনি ধসে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে খনি শ্রমিক ছাড়াও নারী ও শিশুরা রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায়। অঞ্চলটি প্রাদেশিক রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। খনিটি গত বুধবার ধসে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মুইসা জানান, খনি ধসের ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “কিছু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে অনেকেই গুরুতর আহত। অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক নিযুক্ত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, আহতদের পাশাপাশি বেশ কিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে প্রাদেশিক গভর্নরের এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, মৃতের সংখ্যা ২০০ জনেরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন,

আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়াকে ব্রিফ করার অনুমতি না থাকায় তিনি বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।
ফ্রাঙ্ক বলিঙ্গো নামে এক খনি শ্রমিক বলেন,
“প্রচণ্ড বৃষ্টির পর ভূমিধস হয়েছে। এখনও অনেক মানুষ খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারে।”

রুবায়ার খনি থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোল্টান উৎপাদন হয়। এই কোল্টান ট্যানটালামে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যা তাপ-প্রতিরোধী একটি ধাতু। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান এবং গ্যাস টারবাইন তৈরিতে এই ধাতুর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

উল্লেখ্য, কঙ্গোর এ অঞ্চলটি ২০২৪ সাল থেকে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এম২৩ বিদ্রোহীরা রাজধানী কিনশাসায় সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের অভিযোগ অনুযায়ী, এম২৩ বিদ্রোহীরা রুবায়া এলাকার খনিজ সম্পদ লুট করছে। বিপুল খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কঙ্গোর ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন ২ দশমিক ১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কঙ্গোতে কোল্টান খনি ধসে নিহত ২০০ জনেরও বেশি

আপডেট সময় ০১:০৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

 

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে একটি কোল্টান খনি ধসে অন্তত ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে খনি শ্রমিক ছাড়াও নারী ও শিশুরা রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায়। অঞ্চলটি প্রাদেশিক রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। খনিটি গত বুধবার ধসে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা মুইসা জানান, খনি ধসের ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, “কিছু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে অনেকেই গুরুতর আহত। অন্তত ২০ জন আহত ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক নিযুক্ত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্টন বাহাতি মুসাঙ্গা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, আহতদের পাশাপাশি বেশ কিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে প্রাদেশিক গভর্নরের এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, মৃতের সংখ্যা ২০০ জনেরও বেশি হতে পারে। তিনি বলেন,

আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়াকে ব্রিফ করার অনুমতি না থাকায় তিনি বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।
ফ্রাঙ্ক বলিঙ্গো নামে এক খনি শ্রমিক বলেন,
“প্রচণ্ড বৃষ্টির পর ভূমিধস হয়েছে। এখনও অনেক মানুষ খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারে।”

রুবায়ার খনি থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোল্টান উৎপাদন হয়। এই কোল্টান ট্যানটালামে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যা তাপ-প্রতিরোধী একটি ধাতু। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান এবং গ্যাস টারবাইন তৈরিতে এই ধাতুর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

উল্লেখ্য, কঙ্গোর এ অঞ্চলটি ২০২৪ সাল থেকে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এম২৩ বিদ্রোহীরা রাজধানী কিনশাসায় সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের অভিযোগ অনুযায়ী, এম২৩ বিদ্রোহীরা রুবায়া এলাকার খনিজ সম্পদ লুট করছে। বিপুল খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কঙ্গোর ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন ২ দশমিক ১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে।