ঋতু পরিবর্তন: শীতের বিদায়বেলায় শিশুর বাড়তি যত্ন
- আপডেট সময় ১২:৩৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 73
প্রকৃতি থেকে শীত বিদায় নিচ্ছে, আসছে বসন্ত। আবহাওয়ার এই সন্ধিক্ষণে দিনের বেলা রোদ ও গরম থাকলেও রাতে বা ভোরের দিকে এখনো হালকা ঠান্ডা অনুভূত হয়। তাপমাত্রার এই ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে শিশুদের সর্দি, কাশি, ভাইরাস জ্বর এবং অ্যালার্জির প্রকোপ বেড়ে যায়। এই সময়ে শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
১. পোশাক নির্বাচনে কৌশলী হওয়া
এখন পুরোপুরি শীতের ভারী পোশাক পরানোর সময় নেই, আবার একেবারে পাতলা কাপড় পরানোও ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুকে হালকা সুতির আরামদায়ক পোশাক পরান, তবে সাথে একটি পাতলা ফুল হাতা গেঞ্জি বা কটি রাখতে পারেন। ভোরে বা রাতে বাইরে বের হলে হালকা চাদর বা পাতলা সোয়েটার ব্যবহার করুন।
২. ঘাম থেকে সাবধান
এই সময়ে শিশুরা খেলাধুলা করলে দ্রুত ঘেমে যায়। ঘাম শরীরে বসে গিয়েই মূলত ঠান্ডা লাগে। তাই শিশু ঘেমে যাচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং ঘামলে দ্রুত শুকনো তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দিন ও পোশাক বদলে ফেলুন।
৩. গোসলের নিয়ম
শীত চলে যাচ্ছে ভেবে হুট করে ঠান্ডা পানিতে গোসল করানো ঠিক হবে না। এখনো হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই নিরাপদ। গোসলের সময় খুব বেশি দীর্ঘ করবেন না এবং গোসল শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাথা ও শরীর ভালো করে মুছে ফেলুন।
৪. পানিশূন্যতা ও ডায়েট
আবহাওয়া গরম হতে শুরু করায় শিশুর শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করান। ডাব, তাজা ফলের রস এবং ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার দিন। বাইরের খোলা খাবার বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় এ সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো।
৫. ধুলোবালি ও অ্যালার্জি
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে বাতাসে ধুলোবালি ও ফুলের রেণু বেশি থাকে, যা থেকে শিশুদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জি হতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় শিশুকে মাস্ক পরানোর অভ্যাস করুন এবং ঘরদোর পরিষ্কার ও ধুলোমুক্ত রাখুন।
৬. ফ্যান ব্যবহারের সতর্কতা
অনেকে গরম অনুভূত হওয়ায় এখনই জোরে ফ্যান ছেড়ে দিচ্ছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বিপদের কারণ হতে পারে। খুব প্রয়োজন হলে একদম হালকা গতিতে ফ্যান ছাড়ুন, তবে খেয়াল রাখবেন যেন সরাসরি শিশুর গায়ে বাতাস না লাগে।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সামান্য অসতর্কতা শিশুকে দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতায় ফেলতে পারে। তাই তাদের খাওয়া-দাওয়া ও পোশাকের বিষয়ে সচেতন থাকুন। যদি শিশুর টানা কয়েকদিন জ্বর বা তীব্র কাশি থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।




















