১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘২ হাজার টাকার কার্ড পেতে ১ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে না তো?’—নাহিদ ইসলাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 116

ছবি: সংগৃহীত

 

বিএনপি সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ঘোষিত সুযোগ–সুবিধা আদৌ জনগণের হাতে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শুনছি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড দেওয়া হোক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই কার্ড জনগণের কাছে পৌঁছাবে তো?”

তিনি আরও বলেন, “২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে না তো? যদি ঘুষ আর চাঁদাবাজি বন্ধ না করা যায়, তাহলে এই সব সুযোগ–সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছাবে কীভাবে?”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, একদিকে কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণ খেলাপিদের সংসদে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। যদি সত্যিই জনগণের কল্যাণ চাওয়া হয়, তাহলে কোনো ঋণ খেলাপিকে মনোনয়ন দেওয়া যায় না।”

ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা ঋণ পরিশোধ করেনি, তারা সংসদে গেলে কি ঋণ শোধ করবে? না, তারা আবারও ঋণ নেবে, আবারও লুট করবে, আবারও টাকা বিদেশে পাচার করবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি। আমরা লুটেরাদের বিরুদ্ধেই গণঅভ্যুত্থান করেছি। নতুন কোনো লুটেরাকে ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের জনগণও তা হতে দেবে না।”
বস্তিবাসীদের আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। কিন্তু বস্তিবাসী আমাদের কাছে কখনো ফ্ল্যাট চায়নি। তারা চায় নিরাপদ জীবন, চায় মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা শহরে যারা বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলেছে, তারাই আবার বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। বস্তিতে আগুন দিয়েছে। বলা হয়েছে—‘ফ্ল্যাট দেব, আগে উচ্ছেদ হন’। আল্লাহ না করুক, আবারও যেন এমন কিছু না ঘটে।”

বক্তব্যের শেষদিকে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জান্নাতের মালিক আল্লাহ, আর ভোটের মালিক দেশের জনগণ। জনগণ বুঝে গেছে, আরও ভালোভাবে বুঝবে—কারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করছে, কারা মানুষকে ঠকাচ্ছে, আর কারা সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

‘২ হাজার টাকার কার্ড পেতে ১ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে না তো?’—নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

 

বিএনপি সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ঘোষিত সুযোগ–সুবিধা আদৌ জনগণের হাতে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শুনছি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড দেওয়া হোক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই কার্ড জনগণের কাছে পৌঁছাবে তো?”

তিনি আরও বলেন, “২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে না তো? যদি ঘুষ আর চাঁদাবাজি বন্ধ না করা যায়, তাহলে এই সব সুযোগ–সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছাবে কীভাবে?”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, একদিকে কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণ খেলাপিদের সংসদে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে, আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। যদি সত্যিই জনগণের কল্যাণ চাওয়া হয়, তাহলে কোনো ঋণ খেলাপিকে মনোনয়ন দেওয়া যায় না।”

ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা ঋণ পরিশোধ করেনি, তারা সংসদে গেলে কি ঋণ শোধ করবে? না, তারা আবারও ঋণ নেবে, আবারও লুট করবে, আবারও টাকা বিদেশে পাচার করবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশ চাইনি। আমরা লুটেরাদের বিরুদ্ধেই গণঅভ্যুত্থান করেছি। নতুন কোনো লুটেরাকে ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের জনগণও তা হতে দেবে না।”
বস্তিবাসীদের আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। কিন্তু বস্তিবাসী আমাদের কাছে কখনো ফ্ল্যাট চায়নি। তারা চায় নিরাপদ জীবন, চায় মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা শহরে যারা বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলেছে, তারাই আবার বস্তি উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছে। বস্তিতে আগুন দিয়েছে। বলা হয়েছে—‘ফ্ল্যাট দেব, আগে উচ্ছেদ হন’। আল্লাহ না করুক, আবারও যেন এমন কিছু না ঘটে।”

বক্তব্যের শেষদিকে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জান্নাতের মালিক আল্লাহ, আর ভোটের মালিক দেশের জনগণ। জনগণ বুঝে গেছে, আরও ভালোভাবে বুঝবে—কারা নির্বাচনের আগে প্রতারণা করছে, কারা মানুষকে ঠকাচ্ছে, আর কারা সংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।”