০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কেউ চিরদিন বাঁচে না’—হাসিনা যুগ নিয়ে জয়ের বক্তব্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 41

ছবি: সংগৃহীত

হাসিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি: আল জাজিরাকে জয়ের ইঙ্গিত

নোট:
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও রাজনীতি
ছবি: আল জাজিরার ভিডিও থেকে সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে আর নাও দেখা যেতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে ও দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তাই’, যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, এটি কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ কি না।

আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। তিনি জানান, তার মা দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চান না।
জয় বলেন, “আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।”

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা এই নেত্রী বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, দলটির অস্তিত্ব শেখ হাসিনার ওপর নির্ভরশীল নয়।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।”

আল জাজিরার সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা যদি কখনো দেশে ফেরেন, তাহলে কি তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না। উত্তরে জয় বলেন, “না। তার বয়স হয়েছে, ৭৮ বছর। এমনিতেই এটা তার শেষ মেয়াদ হতো। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন।”
এরপর সরাসরি প্রশ্ন আসে, এটাকে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়? জয়ের সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “সম্ভবত তাই।”

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভোটব্যাংক নিয়েও কথা বলেন জয়। তিনি দাবি করেন, দলটির সমর্থন এখনো ব্যাপক।

তিনি বলেন, “আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট আছে। দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে?”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে জয় বলেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা একটি খারাপ নজির। তবে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল আদালতের সিদ্ধান্তে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, দলীয়ভাবে কোনো কারচুপি প্রয়োজন ছিল না।

তিনি বলেন, “আমাদের জরিপ, এমনকি আমেরিকানদের জরিপও দেখাচ্ছিল আমরা বিপুল ব্যবধানে জিতব। প্রশাসনের ভেতরের কিছু লোক নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এসব করেছে। এতে আমার মা ও আমি ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।”

২০২৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, ওই নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি। বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জনকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন।

সহিংসতা প্রসঙ্গে দেওয়া আগের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, তিনি সহিংসতার হুমকি দেননি।
তার ভাষায়, “আমি বলেছি, যদি কাউকে একেবারে কোণঠাসা করা হয়, তাহলে সহিংসতা স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে। আমি কাউকে হামলা করতে বলিনি।”

ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সক্ষমতা যদি আমাদের থাকত, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার টিকে থাকত না।”

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে কোনো সহিংস রাজনীতিতে যুক্ত নয়। বরং দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে আছেন এবং প্রতিবাদের সুযোগ পাচ্ছেন না।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে জয় বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান হলো—যে নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারছে না, সেই নির্বাচনে মানুষ যেন ভোট না দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

কেউ চিরদিন বাঁচে না’—হাসিনা যুগ নিয়ে জয়ের বক্তব্য

আপডেট সময় ০৪:২৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

হাসিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি: আল জাজিরাকে জয়ের ইঙ্গিত

নোট:
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক ও রাজনীতি
ছবি: আল জাজিরার ভিডিও থেকে সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শেখ হাসিনাকে আর নাও দেখা যেতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে ও দলের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তাই’, যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, এটি কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ কি না।

আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। তিনি জানান, তার মা দেশে ফিরতে আগ্রহী হলেও আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চান না।
জয় বলেন, “আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।”

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা এই নেত্রী বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, দলটির অস্তিত্ব শেখ হাসিনার ওপর নির্ভরশীল নয়।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।”

আল জাজিরার সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা যদি কখনো দেশে ফেরেন, তাহলে কি তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না। উত্তরে জয় বলেন, “না। তার বয়স হয়েছে, ৭৮ বছর। এমনিতেই এটা তার শেষ মেয়াদ হতো। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন।”
এরপর সরাসরি প্রশ্ন আসে, এটাকে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়? জয়ের সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “সম্ভবত তাই।”

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভোটব্যাংক নিয়েও কথা বলেন জয়। তিনি দাবি করেন, দলটির সমর্থন এখনো ব্যাপক।

তিনি বলেন, “আমাদের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট আছে। দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে?”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে জয় বলেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা একটি খারাপ নজির। তবে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল আদালতের সিদ্ধান্তে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, দলীয়ভাবে কোনো কারচুপি প্রয়োজন ছিল না।

তিনি বলেন, “আমাদের জরিপ, এমনকি আমেরিকানদের জরিপও দেখাচ্ছিল আমরা বিপুল ব্যবধানে জিতব। প্রশাসনের ভেতরের কিছু লোক নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এসব করেছে। এতে আমার মা ও আমি ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।”

২০২৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, ওই নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি। বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জনকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন।

সহিংসতা প্রসঙ্গে দেওয়া আগের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, তিনি সহিংসতার হুমকি দেননি।
তার ভাষায়, “আমি বলেছি, যদি কাউকে একেবারে কোণঠাসা করা হয়, তাহলে সহিংসতা স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে। আমি কাউকে হামলা করতে বলিনি।”

ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে জয় বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সক্ষমতা যদি আমাদের থাকত, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার টিকে থাকত না।”

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে কোনো সহিংস রাজনীতিতে যুক্ত নয়। বরং দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে আছেন এবং প্রতিবাদের সুযোগ পাচ্ছেন না।
সাক্ষাৎকারের শেষভাগে জয় বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান হলো—যে নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারছে না, সেই নির্বাচনে মানুষ যেন ভোট না দেয়।