ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

আলোচনার ইঙ্গিত ইরানের, তবে আগেই পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1946

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে বসার আগেই ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ওরা ফোন করেছে। একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা আলোচনা করতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “তবে বৈঠকের আগেই আমাদের কিছু করতে হতে পারে।”
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে এখন ইরান। গত ২৮ ডিসেম্বর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই রূপ নেয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন  বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েনমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান সরকার এখনো বিক্ষোভে নিহতের কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশ করেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তেহরানে অবস্থানরত এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, রাজধানীর পরিস্থিতি কার্যত অচল। বিক্ষোভ শুরুর পর মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ, আর যেগুলো খোলা থাকে সেগুলোকেও বিকেল গড়াতেই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে নিরাপত্তাজনিত কারণে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও এটি ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার ফল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তেহরানের পউনাক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের অপসারিত রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের জন্য অন্যতম গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৮৬ বছর বয়সী খামেনির নেতৃত্বে থাকা সরকার জুনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই বাড়তি চাপে রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একদিকে জ্বলন্ত ভবন ও মসজিদের দৃশ্য, অন্যদিকে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজা ও দাফনের চিত্র প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে—এমন বার্তাও প্রচারে জোর দিয়েছে সরকারি গণমাধ্যম।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ-সাদেগ মোটামেদিয়ান দাবি করেছেন, বিক্ষোভের তীব্রতা কমছে। এদিকে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের স্মরণে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার আয়োজিত ‘জাতীয় প্রতিরোধ মার্চে’ অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েলসহ অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন আলোচনার সম্ভাবনা যেমন দেখা দিচ্ছে, তেমনি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটছে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আলোচনার ইঙ্গিত ইরানের, তবে আগেই পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০৪:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে বসার আগেই ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শীর্ষ পর্যায় থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ওরা ফোন করেছে। একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা আলোচনা করতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “তবে বৈঠকের আগেই আমাদের কিছু করতে হতে পারে।”
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে এখন ইরান। গত ২৮ ডিসেম্বর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই রূপ নেয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন  মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে শীতল যুদ্ধ: ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

ইরান সরকার এখনো বিক্ষোভে নিহতের কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশ করেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তেহরানে অবস্থানরত এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, রাজধানীর পরিস্থিতি কার্যত অচল। বিক্ষোভ শুরুর পর মাংসসহ নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ, আর যেগুলো খোলা থাকে সেগুলোকেও বিকেল গড়াতেই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে নিরাপত্তাজনিত কারণে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও এটি ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার ফল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তেহরানের পউনাক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের অপসারিত রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের জন্য অন্যতম গুরুতর সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৮৬ বছর বয়সী খামেনির নেতৃত্বে থাকা সরকার জুনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই বাড়তি চাপে রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একদিকে জ্বলন্ত ভবন ও মসজিদের দৃশ্য, অন্যদিকে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজা ও দাফনের চিত্র প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে—এমন বার্তাও প্রচারে জোর দিয়েছে সরকারি গণমাধ্যম।

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ-সাদেগ মোটামেদিয়ান দাবি করেছেন, বিক্ষোভের তীব্রতা কমছে। এদিকে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের স্মরণে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার আয়োজিত ‘জাতীয় প্রতিরোধ মার্চে’ অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েলসহ অঞ্চলে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন আলোচনার সম্ভাবনা যেমন দেখা দিচ্ছে, তেমনি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটছে না।