ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজদের সংঘর্ষে নিহত ৩০, আহত শতাধিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 903

ছবি সংগৃহীত

 

সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায় অধ্যুষিত শহর সুইদায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র উপজাতি সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তপাত ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, সোমবার সকালে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সুইদা শহরে স্থানীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সহিংসতা থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইদা, চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানায়, সংঘর্ষের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দামেস্ক-সুইদা মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। শহরের গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং দেশের সংস্কারমূলক জাতীয় আহ্বানে সাড়া দিতে অনুরোধ করেছেন।

সুইদা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও এই অঞ্চলে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে। তবে রবিবারের সহিংসতাই চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। রাজনৈতিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সুইদায় আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহনশীলতা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও দ্রুজদের সংঘর্ষে নিহত ৩০, আহত শতাধিক

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায় অধ্যুষিত শহর সুইদায় স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র উপজাতি সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে রক্তপাত ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, সোমবার সকালে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সুইদা শহরে স্থানীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সহিংসতা থামাতে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইদা, চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানায়, সংঘর্ষের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দামেস্ক-সুইদা মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। শহরের গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং দেশের সংস্কারমূলক জাতীয় আহ্বানে সাড়া দিতে অনুরোধ করেছেন।

সুইদা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচিত। চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসেও এই অঞ্চলে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটে। তবে রবিবারের সহিংসতাই চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক সম্প্রতি আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। রাজনৈতিক সংস্কার, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সুইদায় আরও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহনশীলতা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।