ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 754

ছবি সংগৃহীত

 

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন  বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

দেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান করছে, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার (১১ দশমিক ০৫ শতাংশ) এবং কানাডায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার (৩ দশমিক ৩১ শতাংশ)।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং কানাডায় ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার, যেখানে রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন (৩.৪০ বিলিয়ন), ফ্রান্স (২.১৬ বিলিয়ন), নেদারল্যান্ডস (২.০৯ বিলিয়ন), পোল্যান্ড (১.৭০ বিলিয়ন), ইতালি (১.৫৪ বিলিয়ন) এবং ডেনমার্ক (১.০৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, সুইডেনে ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অপরদিকে, নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মোট রপ্তানির ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এসব বাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ভারতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জাপানে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে, রাশিয়া, কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

আরএমজি শিল্পে নিটওয়্যার খাত ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ওভেন খাত ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ রপ্তানি ট্র্যাডিশনাল বাজারে হলেও নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারের অংশীদারিত্ব এখনো কম, মাত্র ১৬ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) এর তথ্য মতে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলার নন-ট্র্যাডিশনাল বাজার। এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র ৬ শতাংশ, যেখানে বিস্তারের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে জাপানের পোশাক আমদানির ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বর্তমান বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে শুধু দামে নয়, ক্রেতার আস্থা অর্জন ও উদ্ভাবনেও দক্ষ হতে হবে।”

এখানে বাজার বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই আগামী দিনের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আপডেট সময় ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন  চীনের বাজারে যাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম, রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

দেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান করছে, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার (১১ দশমিক ০৫ শতাংশ) এবং কানাডায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার (৩ দশমিক ৩১ শতাংশ)।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং কানাডায় ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার, যেখানে রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন (৩.৪০ বিলিয়ন), ফ্রান্স (২.১৬ বিলিয়ন), নেদারল্যান্ডস (২.০৯ বিলিয়ন), পোল্যান্ড (১.৭০ বিলিয়ন), ইতালি (১.৫৪ বিলিয়ন) এবং ডেনমার্ক (১.০৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, সুইডেনে ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অপরদিকে, নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মোট রপ্তানির ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এসব বাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ভারতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জাপানে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে, রাশিয়া, কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

আরএমজি শিল্পে নিটওয়্যার খাত ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ওভেন খাত ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ রপ্তানি ট্র্যাডিশনাল বাজারে হলেও নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারের অংশীদারিত্ব এখনো কম, মাত্র ১৬ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) এর তথ্য মতে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলার নন-ট্র্যাডিশনাল বাজার। এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র ৬ শতাংশ, যেখানে বিস্তারের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে জাপানের পোশাক আমদানির ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বর্তমান বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে শুধু দামে নয়, ক্রেতার আস্থা অর্জন ও উদ্ভাবনেও দক্ষ হতে হবে।”

এখানে বাজার বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই আগামী দিনের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।