ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২ ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫ ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 407

ছবি সংগৃহীত

 

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন  আমদানি-রপ্তানি শুরু হিলি স্থলবন্দরে

দেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান করছে, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার (১১ দশমিক ০৫ শতাংশ) এবং কানাডায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার (৩ দশমিক ৩১ শতাংশ)।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং কানাডায় ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার, যেখানে রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন (৩.৪০ বিলিয়ন), ফ্রান্স (২.১৬ বিলিয়ন), নেদারল্যান্ডস (২.০৯ বিলিয়ন), পোল্যান্ড (১.৭০ বিলিয়ন), ইতালি (১.৫৪ বিলিয়ন) এবং ডেনমার্ক (১.০৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, সুইডেনে ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অপরদিকে, নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মোট রপ্তানির ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এসব বাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ভারতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জাপানে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে, রাশিয়া, কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

আরএমজি শিল্পে নিটওয়্যার খাত ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ওভেন খাত ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ রপ্তানি ট্র্যাডিশনাল বাজারে হলেও নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারের অংশীদারিত্ব এখনো কম, মাত্র ১৬ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) এর তথ্য মতে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলার নন-ট্র্যাডিশনাল বাজার। এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র ৬ শতাংশ, যেখানে বিস্তারের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে জাপানের পোশাক আমদানির ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বর্তমান বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে শুধু দামে নয়, ক্রেতার আস্থা অর্জন ও উদ্ভাবনেও দক্ষ হতে হবে।”

এখানে বাজার বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই আগামী দিনের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ৮.৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আপডেট সময় ১০:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আরও পড়ুন  ঘুরে দাড়িয়েছে দেশের পোশাক শিল্প, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ২১ ও ইউরোপে ১৭ শতাংশ

দেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান করছে, যেখানে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানির ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার (১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্যে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার (১১ দশমিক ০৫ শতাংশ) এবং কানাডায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার (৩ দশমিক ৩১ শতাংশ)।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং কানাডায় ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার, যেখানে রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন (৩.৪০ বিলিয়ন), ফ্রান্স (২.১৬ বিলিয়ন), নেদারল্যান্ডস (২.০৯ বিলিয়ন), পোল্যান্ড (১.৭০ বিলিয়ন), ইতালি (১.৫৪ বিলিয়ন) এবং ডেনমার্ক (১.০৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ, সুইডেনে ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ, পোল্যান্ডে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

অপরদিকে, নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা মোট রপ্তানির ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত এসব বাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ভারতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জাপানে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে, রাশিয়া, কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

আরএমজি শিল্পে নিটওয়্যার খাত ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ওভেন খাত ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ রপ্তানি ট্র্যাডিশনাল বাজারে হলেও নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারের অংশীদারিত্ব এখনো কম, মাত্র ১৬ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) এর তথ্য মতে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন ডলার নন-ট্র্যাডিশনাল বাজার। এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র ৬ শতাংশ, যেখানে বিস্তারের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে জাপানের পোশাক আমদানির ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এসেছে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বর্তমান বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে শুধু দামে নয়, ক্রেতার আস্থা অর্জন ও উদ্ভাবনেও দক্ষ হতে হবে।”

এখানে বাজার বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই আগামী দিনের চাবিকাঠি বলে মনে করছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।