ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
‘আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন’, তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাস স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬ ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁস, পেন্টাগনে ৫০ জনের পলিগ্রাফ পরীক্ষা ‘মায়ের মূর্ত প্রতীক’ খালেদা জিয়া: ভূমিমন্ত্রী কবর থেকে মরদেহ তুলে অন্যত্র দাফন, শামীমের মরদেহ দাফন হলো তিনবার কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা পাঁয়তারা চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী সিডনিতে শাবনূর-তাসকিনের জমজমাট বারবিকিউ আড্ডা এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ; মেয়ের বিয়ের টাকা নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল রংপুর মেডিকেলে এক মাসে কাটবে আইসিইউ সংকট: ত্রাণমন্ত্রী নৌকা থেকে পড়া ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাবার মৃত্যু

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 659

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন  গা/জা/য় অনির্দিষ্টকাল সেনা রাখার ঘোষণা ই*স*রা*য়ে*লের

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন  গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় নিহত ৭৩ ফিলিস্তিনি

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।