ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 527

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন  সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে ইসরায়েলের উদ্বেগ: নতুন সংঘাতের শঙ্কা?

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন  উত্তর গাজায় ফিরছে ৩ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।