০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত যুব বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিদায়, ফয়সালের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি কীর্তি

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 103

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।