ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের

গরু কিনে বাড়ি ফেরা হলো না, মাদারীপুরে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • / 461

ছবি সংগৃহীত

 

 

ঈদের আগে গরু কিনতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলে ও ভাগনেসহ একই পরিবারের তিনজনের। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের ভাঙ্গা-টেকেরহাট মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন ও পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  বলিভিয়ায় অবতরণের সময় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ১১

নিহতরা হলেন শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামের ইব্রাহিম সরদার (৬৫), তাঁর ছেলে মনির সরদার (৩৬), ভাগনে তারা মিয়া শেখ (৪২) এবং আরও দুইজন—যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জানা গেছে, ইব্রাহিম সরদার ও তাঁর পরিবার নিয়মিত হাট-বাজার থেকে ছোট গরু কিনে স্থানীয় হাটে বিক্রি করতেন। এদিনও তাঁরা টেকেরহাট গরুর হাটে যাচ্ছিলেন একটি মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) ভ্যানে করে। পথে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাবলাতলা এলাকায় রাস্তার পাশে থামানো মাহিন্দ্রায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ‘মিজান পরিবহনের’ একটি দ্রুতগতির বাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে মাহিন্দ্রা উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।

শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামে নিহত মনির সরদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে বাবা-ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ও সন্তানরা। মনিরের এক মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার দুই ছোট ছেলেও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ চৌধুরী বলেন, “মনির আমার ছোটবেলার বন্ধু। তারা গরু কিনে হাটে বিক্রি করত। ঈদের আগেই ওদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।”

আরেক প্রতিবেশী বলেন, “দুদিন পর ঈদ, অথচ এ বাড়িতে এখন কেবল শোক আর কান্না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কতগুলো স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। মৃতদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটি আটক করা হয়েছে, চালক পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা দুর্ঘটনার জন্য দ্রুতগতির বাস চলাচল এবং নিরাপত্তার অভাবকেই দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গরু কিনে বাড়ি ফেরা হলো না, মাদারীপুরে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত

আপডেট সময় ০৭:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

 

 

ঈদের আগে গরু কিনতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলে ও ভাগনেসহ একই পরিবারের তিনজনের। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের ভাঙ্গা-টেকেরহাট মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন ও পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলে মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত কমপক্ষে ৬০ জন

নিহতরা হলেন শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামের ইব্রাহিম সরদার (৬৫), তাঁর ছেলে মনির সরদার (৩৬), ভাগনে তারা মিয়া শেখ (৪২) এবং আরও দুইজন—যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জানা গেছে, ইব্রাহিম সরদার ও তাঁর পরিবার নিয়মিত হাট-বাজার থেকে ছোট গরু কিনে স্থানীয় হাটে বিক্রি করতেন। এদিনও তাঁরা টেকেরহাট গরুর হাটে যাচ্ছিলেন একটি মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) ভ্যানে করে। পথে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাবলাতলা এলাকায় রাস্তার পাশে থামানো মাহিন্দ্রায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ‘মিজান পরিবহনের’ একটি দ্রুতগতির বাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে মাহিন্দ্রা উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।

শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামে নিহত মনির সরদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে বাবা-ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ও সন্তানরা। মনিরের এক মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার দুই ছোট ছেলেও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ চৌধুরী বলেন, “মনির আমার ছোটবেলার বন্ধু। তারা গরু কিনে হাটে বিক্রি করত। ঈদের আগেই ওদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।”

আরেক প্রতিবেশী বলেন, “দুদিন পর ঈদ, অথচ এ বাড়িতে এখন কেবল শোক আর কান্না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কতগুলো স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। মৃতদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটি আটক করা হয়েছে, চালক পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা দুর্ঘটনার জন্য দ্রুতগতির বাস চলাচল এবং নিরাপত্তার অভাবকেই দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।