ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত

২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ: পাকিস্তান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
  • / 553

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান।

শুক্রবার (২৩ মে) জাতিসংঘের এক বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন বলেন, “পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, চুক্তি আইন এবং প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।” তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে মানবিক বিপর্যয় বা আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টির আগেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন  ভারতীয় পণ্যে স্থল, সাগর ও আকাশপথে পরিবহন নিষিদ্ধ করলো পাকিস্তান

রাষ্ট্রদূত জাদুন বলেন, “আমরা ভারতের এই বেআইনি সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর প্রবাহ রোধ বা সীমিত করা থেকে বিরত থাকতে ভারতকে আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান কখনোই এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না যা এই অঞ্চলের শান্তি বা মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কিছু বিবৃতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের জনগণকে অনাহারে রাখার মতো ঘোষণা এক বিপজ্জনক এবং বিকৃত মানসিকতার পরিচয় বহন করে।”

রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান, পানিকে কখনোই ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার না করতে এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এসব ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে একটি রাষ্ট্র পানিকে দর কষাকষির হাতিয়ার এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।”

এই বিবৃতির পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের গভীর উদ্বেগ বিশেষ করে ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সিন্ধু চুক্তি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ইসলামাবাদ মনে করে।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিল বিশ্বব্যাংক। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করেন, ভারতের এই পদক্ষেপগুলো একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে অ-সামরিক উপায়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া হামলার প্রেক্ষিতে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার জেরে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

সূত্র: ডন

নিউজটি শেয়ার করুন

সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত

২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনের জন্য এটি হুমকিস্বরূপ: পাকিস্তান

আপডেট সময় ০২:৫১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

 

ভারতের একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে সতর্ক করেছে পাকিস্তান।

শুক্রবার (২৩ মে) জাতিসংঘের এক বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন বলেন, “পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, চুক্তি আইন এবং প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।” তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে মানবিক বিপর্যয় বা আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টির আগেই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন  ভারতে আবার করণার হানা: ২ জনের মৃত্যু

রাষ্ট্রদূত জাদুন বলেন, “আমরা ভারতের এই বেআইনি সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি। পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর প্রবাহ রোধ বা সীমিত করা থেকে বিরত থাকতে ভারতকে আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান কখনোই এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না যা এই অঞ্চলের শান্তি বা মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কিছু বিবৃতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের জনগণকে অনাহারে রাখার মতো ঘোষণা এক বিপজ্জনক এবং বিকৃত মানসিকতার পরিচয় বহন করে।”

রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান, পানিকে কখনোই ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার না করতে এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এসব ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে একটি রাষ্ট্র পানিকে দর কষাকষির হাতিয়ার এবং অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।”

এই বিবৃতির পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের গভীর উদ্বেগ বিশেষ করে ভারতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো সিন্ধু চুক্তি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ইসলামাবাদ মনে করে।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিল বিশ্বব্যাংক। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করেন, ভারতের এই পদক্ষেপগুলো একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যার মাধ্যমে অ-সামরিক উপায়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া হামলার প্রেক্ষিতে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার জেরে ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

সূত্র: ডন