ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়া-ইউক্রেনের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বন্দি বিনিময়, ফিরলেন ৭৮০ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 240

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২০২২ সালে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পর এটাই সবচেয়ে বড় বন্দি বিনিময়। দুই দেশই একে অপরের ৩৯০ জন করে সেনা ও বেসামরিক ব্যক্তিকে ফেরত দিয়েছে। বেলারুশ সীমান্তে এ বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই ২৭০ জন সেনা ও ১২০ জন বেসামরিক নাগরিককে হস্তান্তর করেছে।

তুরস্কের ইস্তানবুলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এক সপ্তাহ আগে এই বিনিময় চূড়ান্ত হয়। এতে এক হাজার বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়, এবং উভয় দেশই জানিয়েছে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন  জি-৭ এ রাশিয়াকে ফেরাতে চান ট্রাম্প, বাড়ছে বিতর্ক

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অনেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে কুর্স্ক সীমান্ত অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলার সময় আটক হয়েছিলেন। বর্তমানে তারা বেলারুশে রয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য রাশিয়ায় নেওয়া হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, “আমরা আমাদের মানুষদের ঘরে ফিরিয়ে আনছি। প্রতিটি নাম, প্রতিটি তথ্য আমরা যাচাই করছি।” ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দি সমন্বয় দপ্তর জানায়, মুক্তিপ্রাপ্ত সেনারা মূলত কিয়েভ, চেরনিহিভ, সুমি, দোনেৎস্ক, খারকিভ ও খেরসন অঞ্চলে যুদ্ধ করছিলেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন এবং অনেকেই ২০২২ সাল থেকেই বন্দি ছিলেন।

এই বিনিময়কে ‘গঠনমূলক সূচনা’ হিসেবে দেখছেন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি মন্তব্য করেন, “এটি কিছু বড় কিছুর সূচনা হতে পারে???”

এদিকে, উত্তর ইউক্রেনে বন্দি সেনাদের পরিবারগুলো আনন্দ ও উদ্বেগে মিলিত হয়েছেন। এক মা, নাতালিয়া জানান, তার ছেলে ইয়েলিজার তিন বছর আগে সিভিয়ারোডোনেটস্ক যুদ্ধে বন্দি হন। তিনি এখনো আশা করছেন ছেলেকে ফিরে পাবেন। আরেকজন মা ওলহা জানান, তার ছেলে ভ্যালেরি দুই মাস আগে লুহানস্কে নিখোঁজ হন এবং তারপর থেকেই তার জীবন থমকে গেছে।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ২০২২ সালের মার্চের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হন। যদিও এই বৈঠক মাত্র দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, একটি ‘মেমোরেন্ডাম’ দেওয়া হবে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পুতিনকে অভিযুক্ত করেন ‘সময় নষ্টের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা’ করার জন্য।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়া-ইউক্রেনের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বন্দি বিনিময়, ফিরলেন ৭৮০ জন

আপডেট সময় ১০:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ২০২২ সালে শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পর এটাই সবচেয়ে বড় বন্দি বিনিময়। দুই দেশই একে অপরের ৩৯০ জন করে সেনা ও বেসামরিক ব্যক্তিকে ফেরত দিয়েছে। বেলারুশ সীমান্তে এ বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই ২৭০ জন সেনা ও ১২০ জন বেসামরিক নাগরিককে হস্তান্তর করেছে।

তুরস্কের ইস্তানবুলে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এক সপ্তাহ আগে এই বিনিময় চূড়ান্ত হয়। এতে এক হাজার বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়, এবং উভয় দেশই জানিয়েছে ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর মডেলের প্রস্তাব

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অনেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে কুর্স্ক সীমান্ত অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলার সময় আটক হয়েছিলেন। বর্তমানে তারা বেলারুশে রয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য রাশিয়ায় নেওয়া হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, “আমরা আমাদের মানুষদের ঘরে ফিরিয়ে আনছি। প্রতিটি নাম, প্রতিটি তথ্য আমরা যাচাই করছি।” ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দি সমন্বয় দপ্তর জানায়, মুক্তিপ্রাপ্ত সেনারা মূলত কিয়েভ, চেরনিহিভ, সুমি, দোনেৎস্ক, খারকিভ ও খেরসন অঞ্চলে যুদ্ধ করছিলেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন এবং অনেকেই ২০২২ সাল থেকেই বন্দি ছিলেন।

এই বিনিময়কে ‘গঠনমূলক সূচনা’ হিসেবে দেখছেন মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি মন্তব্য করেন, “এটি কিছু বড় কিছুর সূচনা হতে পারে???”

এদিকে, উত্তর ইউক্রেনে বন্দি সেনাদের পরিবারগুলো আনন্দ ও উদ্বেগে মিলিত হয়েছেন। এক মা, নাতালিয়া জানান, তার ছেলে ইয়েলিজার তিন বছর আগে সিভিয়ারোডোনেটস্ক যুদ্ধে বন্দি হন। তিনি এখনো আশা করছেন ছেলেকে ফিরে পাবেন। আরেকজন মা ওলহা জানান, তার ছেলে ভ্যালেরি দুই মাস আগে লুহানস্কে নিখোঁজ হন এবং তারপর থেকেই তার জীবন থমকে গেছে।

তুরস্কে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ২০২২ সালের মার্চের পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হন। যদিও এই বৈঠক মাত্র দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, একটি ‘মেমোরেন্ডাম’ দেওয়া হবে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পুতিনকে অভিযুক্ত করেন ‘সময় নষ্টের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা’ করার জন্য।

সূত্র: বিবিসি