ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা :মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটুর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে প্রেরণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • / 597

ছবি সংগৃহীত

 

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২১ মে) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র।

এর আগে গত ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একই মামলায় তার স্ত্রী জাহেদা বেগম এবং সন্তান সজীব শেখ ও রাতুল শেখকে খালাস দেন আদালত।

আরও পড়ুন  বিহারে ডাইনি বিদ্যার চর্চায় একই পরিবারের ৫ জনকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট ও ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে আট বছরের শিশু আছিয়া হিটু শেখের লালসার শিকার হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে, পরে ফরিদপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আছিয়ার।

ঘটনার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানির মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার কাজ।

এই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায়কে সাধারণ মানুষ ও শিশু অধিকারকর্মীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এমন দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের রায় কার্যকর হয় না।

আসামির পক্ষে এখনো আপিলের সুযোগ থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী উচ্চ আদালতেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা :মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিটুর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে প্রেরণ

আপডেট সময় ০৪:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

 

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২১ মে) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র।

এর আগে গত ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। একই মামলায় তার স্ত্রী জাহেদা বেগম এবং সন্তান সজীব শেখ ও রাতুল শেখকে খালাস দেন আদালত।

আরও পড়ুন  মেক্সিকোতে চলতি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়র প্রার্থীকে হত্যা

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এই মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট ও ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে আট বছরের শিশু আছিয়া হিটু শেখের লালসার শিকার হয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে, পরে ফরিদপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবশেষে ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আছিয়ার।

ঘটনার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ছুটির দিন বাদে টানা শুনানির মাধ্যমে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেষ হয় বিচার কাজ।

এই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক রায়কে সাধারণ মানুষ ও শিশু অধিকারকর্মীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এমন দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের রায় কার্যকর হয় না।

আসামির পক্ষে এখনো আপিলের সুযোগ থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী উচ্চ আদালতেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।