ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

এনবিআরের কলমবিরতিতে বাড়ছে রাজস্ব ঘাটতি, অর্থনীতিতে শঙ্কার ছায়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / 290

ছবি সংগৃহীত

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে কলমবিরতি পালন করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা এই কর্মসূচির ফলে রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “কর্মবিরতির ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত হয়নি। এই ক্ষতির পূরণ সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন  কমছে ৬০% আমদানি শুল্ক কত কমবে স্মার্টফোনের দাম

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এনবিআর ভেঙে দুটি নতুন সংস্থা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও রাজস্ব নীতি বিভাগ গঠন করা হয়। হঠাৎ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনবিআর কর্মকর্তারা চাকরি নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কলমবিরতির ঘোষণা দেন। ফলে আয়কর রিটার্ন, কাস্টমস ছাড়পত্র ও ভ্যাট আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে এনবিআর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করেছে, যা ২৫ শতাংশ ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার ১৫১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমদানি কমে যাওয়া এবং কর ব্যবস্থার দুর্বল কাঠামো এই ঘাটতির পেছনে বড় কারণ। তবে চলমান কলমবিরতির কারণে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিপিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রবণতা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় কমানো অথবা ঋণ নির্ভরতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনবিআর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জরুরি রাজস্ব কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, তবে আলোচনা দ্রুত ফলপ্রসূ হলে অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এনবিআরের কলমবিরতিতে বাড়ছে রাজস্ব ঘাটতি, অর্থনীতিতে শঙ্কার ছায়া

আপডেট সময় ০৮:২২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে কলমবিরতি পালন করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা এই কর্মসূচির ফলে রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “কর্মবিরতির ফলে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত হয়নি। এই ক্ষতির পূরণ সম্ভব নয়।”

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে তিনটি আইকনিক ভবনের পরিকল্পনা: এনবিআর

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এনবিআর ভেঙে দুটি নতুন সংস্থা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও রাজস্ব নীতি বিভাগ গঠন করা হয়। হঠাৎ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনবিআর কর্মকর্তারা চাকরি নিরাপত্তা ও দায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে কলমবিরতির ঘোষণা দেন। ফলে আয়কর রিটার্ন, কাস্টমস ছাড়পত্র ও ভ্যাট আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে এনবিআর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করেছে, যা ২৫ শতাংশ ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২২ হাজার ১৫১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমদানি কমে যাওয়া এবং কর ব্যবস্থার দুর্বল কাঠামো এই ঘাটতির পেছনে বড় কারণ। তবে চলমান কলমবিরতির কারণে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিপিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রবণতা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষে রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় কমানো অথবা ঋণ নির্ভরতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এনবিআর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জরুরি রাজস্ব কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “ক্ষতি হয়েছে ঠিকই, তবে আলোচনা দ্রুত ফলপ্রসূ হলে অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।”