১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ফিজি: প্রশান্ত মহাসাগরের হারানো রত্ন ‘বাংলাদেশের পাশে আছে পাকিস্তান, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলবে না দল: পাকিস্তান স্পিকার না থাকায় এমপিদের শপথ পড়াবেন কে, জেনে নিন বিশ্বে ৭২ শতাংশ মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানো মামলার রায় আজ দ্বিতীয়বারের মতো বাবা হলেন জিয়াউল হক পলাশ ভোট কারচুপির ছক? জামায়াত নেতার নির্দেশে সিল তৈরি—মামলা ও বহিষ্কারে উত্তাল রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ভূগর্ভস্থ নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান সৌদি লিগের ভেতরের টানাপোড়েন, ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভেতরে দ্বিমত

নার্সিংয়ের আলোকবর্তিকা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন আজ

আধুনিকনার্সিং, জন্মদিন
  • আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 150

ছবি সংগৃহীত

 

আধুনিক নার্সিং সেবার পথপ্রদর্শক ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন আজ সোমবার, ১২ মে। মানবতার প্রতীক ও নার্সিং জগতের অগ্রদূত এই মহীয়সী নারীর জন্মদিনে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল শুধু একজন সেবিকা নন, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ লেখক ও পরিসংখ্যানবিদও। তাকে বলা হয় ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’। রাতের আঁধারে হাতে ল্যাম্প নিয়ে আহত সৈন্যদের সেবা করতে করতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মানবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ছোটবেলা থেকেই গরিব ও অসুস্থ মানুষদের প্রতি তার সহানুভূতি ছিল গভীর। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন জীবনের বাকিটা কাটাবেন মানুষের সেবায়।

তবে তার এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। ভিক্টোরিয়ান যুগে অভিজাত পরিবারের মেয়েদের জন্য নার্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া ছিল একপ্রকার বিদ্রোহ। পরিবারের বাধা অগ্রাহ্য করে ১৮৪৪ সালে তিনি জার্মানির লুথেরান হাসপাতালে নার্সিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

পরে লন্ডনের মিডেলসেক্স হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন তার নিষ্ঠা ও দক্ষতা তাকে দ্রুতই তত্ত্বাবধায়ক পদে উন্নীত করে। বিশেষ করে কলেরা মহামারির সময় তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা রোগের বিস্তার রোধে সহায়ক হয়।

তবে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ক্রিমিয়ান যুদ্ধ। সেখানে আহত সৈন্যদের সেবা করে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। যুদ্ধ শেষে তিনি নার্সিং পেশার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’। তার লেখা বই ‘নোটস অন নার্সিং’ আজও নার্সিং শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৮৮৩ সালে রানি ভিক্টোরিয়া তাকে ‘রয়েল রেডক্রস’ পদকে ভূষিত করেন। ১৯০৭ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে পান ‘অর্ডার অব মেরিট’ সম্মাননা। ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার স্মরণে ও নার্সিং পেশার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে’। এই দিনে নতুন নার্সরা ‘নাইটিঙ্গেল প্লেজ’ পাঠ করে তার আদর্শকে অনুসরণ করার শপথ নেন।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এক আলোকবর্তিকা, যিনি আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রত্যেক নার্সের হৃদয়ে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নার্সিংয়ের আলোকবর্তিকা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন আজ

আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

 

আধুনিক নার্সিং সেবার পথপ্রদর্শক ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন আজ সোমবার, ১২ মে। মানবতার প্রতীক ও নার্সিং জগতের অগ্রদূত এই মহীয়সী নারীর জন্মদিনে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল শুধু একজন সেবিকা নন, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ লেখক ও পরিসংখ্যানবিদও। তাকে বলা হয় ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’। রাতের আঁধারে হাতে ল্যাম্প নিয়ে আহত সৈন্যদের সেবা করতে করতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মানবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

১৮২০ সালের ১২ মে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ছোটবেলা থেকেই গরিব ও অসুস্থ মানুষদের প্রতি তার সহানুভূতি ছিল গভীর। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন জীবনের বাকিটা কাটাবেন মানুষের সেবায়।

তবে তার এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। ভিক্টোরিয়ান যুগে অভিজাত পরিবারের মেয়েদের জন্য নার্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া ছিল একপ্রকার বিদ্রোহ। পরিবারের বাধা অগ্রাহ্য করে ১৮৪৪ সালে তিনি জার্মানির লুথেরান হাসপাতালে নার্সিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

পরে লন্ডনের মিডেলসেক্স হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন তার নিষ্ঠা ও দক্ষতা তাকে দ্রুতই তত্ত্বাবধায়ক পদে উন্নীত করে। বিশেষ করে কলেরা মহামারির সময় তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা রোগের বিস্তার রোধে সহায়ক হয়।

তবে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ক্রিমিয়ান যুদ্ধ। সেখানে আহত সৈন্যদের সেবা করে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। যুদ্ধ শেষে তিনি নার্সিং পেশার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাইটিঙ্গেল ট্রেনিং স্কুল’। তার লেখা বই ‘নোটস অন নার্সিং’ আজও নার্সিং শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৮৮৩ সালে রানি ভিক্টোরিয়া তাকে ‘রয়েল রেডক্রস’ পদকে ভূষিত করেন। ১৯০৭ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে পান ‘অর্ডার অব মেরিট’ সম্মাননা। ১৯১০ সালের ১৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার স্মরণে ও নার্সিং পেশার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে’। এই দিনে নতুন নার্সরা ‘নাইটিঙ্গেল প্লেজ’ পাঠ করে তার আদর্শকে অনুসরণ করার শপথ নেন।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এক আলোকবর্তিকা, যিনি আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রত্যেক নার্সের হৃদয়ে।