ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানায় বিজিবির অভিযান: ১৪ জন অপহৃত উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 515

ছবি সংগৃহীত

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফে কুখ্যাত মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪ জন অপহৃত বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১০ মে) গভীর রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন  সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযান: বিপুল অস্ত্রসহ বনদস্যুর ২ সদস্য আটক

অভিযানটি পরিচালনা করেন বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান। অপহৃতদের সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বিজিবির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এর আগে গত ২৪ এপ্রিল গভীর সাগরপথে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে মানবপাচারের সময় মো. সাইফুল ইসলাম নামের একজন চিহ্নিত পাচারকারীসহ একটি চক্রকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তবে সে সময় পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানায় মানব ও মাদক পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে বিজিবি। মামলার ভিত্তিতে এবং উদ্ধার হওয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেরিন ড্রাইভ ও দমদমিয়া এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়।

তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে নিয়ে আসত। এরপর সুবিধাজনক সময়ে অপহরণ করে তাদের দুর্গম এলাকায় আটক রাখা হতো। পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো, আর অপহৃতদের ওপর চালানো হতো নির্যাতন। এমনকি নির্যাতনের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরিবারে পাঠিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আদায় করা হতো মুক্তিপণ।

১০ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জন অপহৃতকে উদ্ধার করে বিজিবি। তারা সবাই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা সাধারণ নাগরিক।

বিজিবি আরও জানায়, চক্রটির মূল হোতা টেকনাফের লেঙ্গুরবিল এলাকার মৃত হাফেজ আহমেদের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৯)-এর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।

মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ রোধে বিজিবির এমন পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানায় বিজিবির অভিযান: ১৪ জন অপহৃত উদ্ধার

আপডেট সময় ০২:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফে কুখ্যাত মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৪ জন অপহৃত বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১০ মে) গভীর রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন  তেঁতুলিয়া নদীতে ডাকাতি, কোস্ট গার্ডের অভিযানে ‘শাহিন বাহিনীর’ পাঁচ জলদস্যু আটক

অভিযানটি পরিচালনা করেন বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান। অপহৃতদের সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বিজিবির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এর আগে গত ২৪ এপ্রিল গভীর সাগরপথে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে মানবপাচারের সময় মো. সাইফুল ইসলাম নামের একজন চিহ্নিত পাচারকারীসহ একটি চক্রকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তবে সে সময় পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানায় মানব ও মাদক পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে বিজিবি। মামলার ভিত্তিতে এবং উদ্ধার হওয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেরিন ড্রাইভ ও দমদমিয়া এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়।

তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফে নিয়ে আসত। এরপর সুবিধাজনক সময়ে অপহরণ করে তাদের দুর্গম এলাকায় আটক রাখা হতো। পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো, আর অপহৃতদের ওপর চালানো হতো নির্যাতন। এমনকি নির্যাতনের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরিবারে পাঠিয়ে চাপ প্রয়োগ করে আদায় করা হতো মুক্তিপণ।

১০ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জন অপহৃতকে উদ্ধার করে বিজিবি। তারা সবাই দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা সাধারণ নাগরিক।

বিজিবি আরও জানায়, চক্রটির মূল হোতা টেকনাফের লেঙ্গুরবিল এলাকার মৃত হাফেজ আহমেদের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৯)-এর বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।

মানবপাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধ রোধে বিজিবির এমন পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।