ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

কুরবানির জন্য দেশীয় গবাদিপশু যথেষ্ট, আমদানির প্রয়োজন নেই: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 404

ছবি সংগৃহীত

 

চলতি বছর কুরবানির জন্য দেশে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। রোববার (৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় কুরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। অবৈধভাবে যেন পশু না আসে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ ও পরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাজারে যাতে কোনো অস্থিরতা না তৈরি হয়, সে জন্য খামারিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পশুর দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার বিষয়েও আমরা সচেষ্ট।”

আরও পড়ুন  দেশীয় গরুর জাত রক্ষায় জরুরি রোডম্যাপের তাগিদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার

তিনি আরও জানান, সরকার খামারিদের আশ্বস্ত করেছে—দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কুরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব। কোনো আমদানির প্রয়োজন হবে না। চাঁদাবাজি ঠেকাতে প্রশাসন সক্রিয় থাকবে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য ৫ হাজার ৫১২টি পশু। চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ ও নিরাপদ লালন-পালনের বিষয়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৩ হাজার ৬৫৬ জন খামারিকে প্রশিক্ষণ, ৬ হাজার ৬০০টি উঠান বৈঠক এবং প্রায় তিন লাখ লিফলেট-পোস্টার বিতরণ করা হয়েছে। স্টেরয়েড ও হরমোন ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ৫৩ হাজারের বেশি খামার পরিদর্শন করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এর পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও চলছে।

পশুবাহী যানবাহনের সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিত করতে বাস বা লকআপে ছাগল-ভেড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অনুপযুক্ত পরিবহন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

পশুবাহী ট্রাক ছিনতাই রোধে বিজিবি, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে। হটলাইন (১৬৩৫৮) চালু থাকবে—যেখানে যেকোনো অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, হাট বসানো ও যানজট এড়াতে মহাসড়ক ও সেতু এলাকায় হাট বসাতে নিরুৎসাহিত করা হবে। পশুবাহী যানবাহন চলাচলে অগ্রাধিকার ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগে আশা করা হচ্ছে, এবারের কুরবানির মৌসুমে পশু সরবরাহ, দাম ও পরিবহনে কোনো ধরণের জটিলতা দেখা দেবে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

কুরবানির জন্য দেশীয় গবাদিপশু যথেষ্ট, আমদানির প্রয়োজন নেই: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

চলতি বছর কুরবানির জন্য দেশে ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে, জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। রোববার (৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় কুরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। অবৈধভাবে যেন পশু না আসে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ ও পরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা প্রস্তুত। বাজারে যাতে কোনো অস্থিরতা না তৈরি হয়, সে জন্য খামারিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পশুর দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার বিষয়েও আমরা সচেষ্ট।”

আরও পড়ুন  ভবিষ্যতে বিদেশে গরুর মাংস রফতানি করাও সরকারের লক্ষ্য: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

তিনি আরও জানান, সরকার খামারিদের আশ্বস্ত করেছে—দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কুরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব। কোনো আমদানির প্রয়োজন হবে না। চাঁদাবাজি ঠেকাতে প্রশাসন সক্রিয় থাকবে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে রয়েছে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য ৫ হাজার ৫১২টি পশু। চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ ও নিরাপদ লালন-পালনের বিষয়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৩ হাজার ৬৫৬ জন খামারিকে প্রশিক্ষণ, ৬ হাজার ৬০০টি উঠান বৈঠক এবং প্রায় তিন লাখ লিফলেট-পোস্টার বিতরণ করা হয়েছে। স্টেরয়েড ও হরমোন ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ৫৩ হাজারের বেশি খামার পরিদর্শন করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এর পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও চলছে।

পশুবাহী যানবাহনের সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিত করতে বাস বা লকআপে ছাগল-ভেড়া পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অনুপযুক্ত পরিবহন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

পশুবাহী ট্রাক ছিনতাই রোধে বিজিবি, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে। হটলাইন (১৬৩৫৮) চালু থাকবে—যেখানে যেকোনো অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, হাট বসানো ও যানজট এড়াতে মহাসড়ক ও সেতু এলাকায় হাট বসাতে নিরুৎসাহিত করা হবে। পশুবাহী যানবাহন চলাচলে অগ্রাধিকার ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে একযোগে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগে আশা করা হচ্ছে, এবারের কুরবানির মৌসুমে পশু সরবরাহ, দাম ও পরিবহনে কোনো ধরণের জটিলতা দেখা দেবে না।