০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন

৪০ দিনে নিবন্ধন চেয়ে ইসিতে ৬৫ দলের আবেদন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 88

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশের রাজনীতির ময়দানে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক দলের জোয়ার। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০ মার্চ জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির পর মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে ৬৫টি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে। এই সময়ের মধ্যে দল গঠনের প্রবণতা যেন একপ্রকার হিড়িকে পরিণত হয়েছে।

এইসব নতুন দলের নাম শুনলেই অনেক সময় বিস্মিত হতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘বাংলাদেশ বেকার সমাজ’, ‘বাংলাদেশ সংসারবন্দি পার্টি’, ‘বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টি’, ‘ইউক্লিয়াস পার্টি’, ‘আ-আম জনতা পার্টি’ ইত্যাদি। নামগুলোতে রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে যেনো চটকদারতা বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিচয় দিলেও এর পেছনে রয়েছে নানা হিসেব-নিকেশ। অনেকেই রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরির উদ্দেশ্যে দল গঠন করছে, যা ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ে ব্যবহৃত হতে পারে। কারও কারও লক্ষ্য থাকে সরকারঘনিষ্ঠ জোটে জায়গা করে নেওয়া কিংবা সংলাপের টেবিলে আসন পাওয়া।

নতুন দলের আত্মপ্রকাশের ধরনও বৈচিত্র্যময়—কেউ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে, কেউ ভার্চুয়াল মাধ্যমে, আবার কেউ শুধু নিবন্ধনের আবেদনেই সীমাবদ্ধ। অনেক দলের নেই তৃণমূল কাঠামো, নেই কর্মসূচি কিংবা জনসম্পৃক্ততা।

তবে এসব দলের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টির চেয়ারম্যান মো. শিপন ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ক্ষমতার জন্য দল গঠন করিনি, জনগণের সেবার জন্য রাজনীতিতে এসেছি।”

জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, “আমরা কোনো ‘কিংস পার্টি’ বা ‘কুইন্স পার্টি’ নই। আমরা নিজেদের শক্তিতেই নির্বাচন করতে চাই।”

আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনও গঠন করেছেন ‘আ-আম জনতা পার্টি’। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সীমিত। ব্যবসা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব হলেও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হলে রাজনীতিই পথ।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “নতুন দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য অনেক সময়ই রাজনৈতিক পরিচিতি অর্জন। এই পরিচিতি পরবর্তীতে বিভিন্ন স্বার্থে ব্যবহৃত হয় ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক।”

তিনি আরও বলেন, “দু-একটি ব্যতিক্রম দল বাদ দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব দলের পেছনে থাকে স্পষ্ট আর্থিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা।”

নিউজটি শেয়ার করুন

৪০ দিনে নিবন্ধন চেয়ে ইসিতে ৬৫ দলের আবেদন

আপডেট সময় ০২:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

 

দেশের রাজনীতির ময়দানে হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক দলের জোয়ার। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০ মার্চ জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির পর মাত্র ৪০ দিনের ব্যবধানে ৬৫টি নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করেছে। এই সময়ের মধ্যে দল গঠনের প্রবণতা যেন একপ্রকার হিড়িকে পরিণত হয়েছে।

এইসব নতুন দলের নাম শুনলেই অনেক সময় বিস্মিত হতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘বাংলাদেশ বেকার সমাজ’, ‘বাংলাদেশ সংসারবন্দি পার্টি’, ‘বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টি’, ‘ইউক্লিয়াস পার্টি’, ‘আ-আম জনতা পার্টি’ ইত্যাদি। নামগুলোতে রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে যেনো চটকদারতা বেশি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রবণতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিচয় দিলেও এর পেছনে রয়েছে নানা হিসেব-নিকেশ। অনেকেই রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরির উদ্দেশ্যে দল গঠন করছে, যা ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ে ব্যবহৃত হতে পারে। কারও কারও লক্ষ্য থাকে সরকারঘনিষ্ঠ জোটে জায়গা করে নেওয়া কিংবা সংলাপের টেবিলে আসন পাওয়া।

নতুন দলের আত্মপ্রকাশের ধরনও বৈচিত্র্যময়—কেউ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে, কেউ ভার্চুয়াল মাধ্যমে, আবার কেউ শুধু নিবন্ধনের আবেদনেই সীমাবদ্ধ। অনেক দলের নেই তৃণমূল কাঠামো, নেই কর্মসূচি কিংবা জনসম্পৃক্ততা।

তবে এসব দলের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টির চেয়ারম্যান মো. শিপন ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ক্ষমতার জন্য দল গঠন করিনি, জনগণের সেবার জন্য রাজনীতিতে এসেছি।”

জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, “আমরা কোনো ‘কিংস পার্টি’ বা ‘কুইন্স পার্টি’ নই। আমরা নিজেদের শক্তিতেই নির্বাচন করতে চাই।”

আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনও গঠন করেছেন ‘আ-আম জনতা পার্টি’। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সীমিত। ব্যবসা দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব হলেও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে হলে রাজনীতিই পথ।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, “নতুন দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য অনেক সময়ই রাজনৈতিক পরিচিতি অর্জন। এই পরিচিতি পরবর্তীতে বিভিন্ন স্বার্থে ব্যবহৃত হয় ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক।”

তিনি আরও বলেন, “দু-একটি ব্যতিক্রম দল বাদ দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব দলের পেছনে থাকে স্পষ্ট আর্থিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা।”