ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেসলার আয় কমেছে, সরকারি দায়িত্বে কমিয়ে ফেলার বার্তা ইলন মাস্কের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 488

ছবি সংগৃহীত

 

চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার আয় ও মুনাফা উভয়ই বড় ধাক্কা খেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর সক্রিয়তা কমানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

টেসলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে তাদের আয় ২০ শতাংশ কমেছে, আর মুনাফা কমেছে ৭০ শতাংশেরও বেশি। এই আর্থিক পতনের পেছনে মাস্কের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককেই দায়ী করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন  টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মামলা

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্ক হোয়াইট হাউসে প্রভাবশালী চরিত্রে অবতীর্ণ হওয়ায় অনেক ক্রেতা টেসলা বর্জনের ডাক দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, টেসলার বিক্রি কমেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি চাপে পড়েছে। টেসলা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চাহিদায় ধস নামার কারণে তাদের প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে।

ট্রাম্পের প্রশাসনে মাস্কের সরাসরি সম্পৃক্ততা বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্টের নবগঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব নিয়েছেন, যেখানে সরকারের ব্যয় ও জনশক্তি কমানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকে তিনি ডিওজিইতে সময় কমিয়ে আনবেন এবং সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন কাজ করবেন।

তবে মাস্কের এই রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণের পর থেকেই টেসলার পণ্যের বিক্রি কমতে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ও বর্জনের ডাকের মুখে মাস্ক বলেছেন, তাঁকে এবং তাঁর ডিওজিই দলকে আক্রমণ করতেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ডিওজিইতে তাঁর নির্ধারিত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

টেসলা জানিয়েছে, প্রথম ত্রৈমাসিকে তাদের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। এরই মধ্যে বাজার ধরে রাখতে টেসলা গাড়ির দামও কমিয়েছে।

এদিকে চীন থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত টেসলার জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও টেসলা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি সংযোজন করে, তবে যন্ত্রাংশের বড় একটি অংশ চীন থেকে আসে। মাস্ক আশঙ্কা করছেন, এই শুল্কের ফলে টেসলার সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটবে এবং খরচ বাড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতিমালা নিয়ে মাস্কের বিরোধ চরমে উঠেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর সঙ্গে মাস্কের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। মাস্ক সম্প্রতি নাভারোকে ‘নির্বোধ’ বলেও মন্তব্য করেছেন। নাভারো পাল্টা মন্তব্যে বলেন, মাস্ক আসলে গাড়ি নির্মাতা নন, বরং একজন সংযোজনকারী মাত্র।

মাস্ক বলেন, তিনি শুল্ক কমানোর পক্ষেই থাকবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে টেসলার সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় রাখতে চেষ্টা করবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টেসলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

টেসলার আয় কমেছে, সরকারি দায়িত্বে কমিয়ে ফেলার বার্তা ইলন মাস্কের

আপডেট সময় ০৬:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

 

চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার আয় ও মুনাফা উভয়ই বড় ধাক্কা খেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর সক্রিয়তা কমানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।

টেসলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে তাদের আয় ২০ শতাংশ কমেছে, আর মুনাফা কমেছে ৭০ শতাংশেরও বেশি। এই আর্থিক পতনের পেছনে মাস্কের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককেই দায়ী করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন  বিশ্বের প্রথম হাফ-ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক, সম্পদ ছাড়াল ৫০০ বিলিয়ন

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্ক হোয়াইট হাউসে প্রভাবশালী চরিত্রে অবতীর্ণ হওয়ায় অনেক ক্রেতা টেসলা বর্জনের ডাক দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, টেসলার বিক্রি কমেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি চাপে পড়েছে। টেসলা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চাহিদায় ধস নামার কারণে তাদের প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে।

ট্রাম্পের প্রশাসনে মাস্কের সরাসরি সম্পৃক্ততা বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্টের নবগঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব নিয়েছেন, যেখানে সরকারের ব্যয় ও জনশক্তি কমানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে। মাস্ক জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকে তিনি ডিওজিইতে সময় কমিয়ে আনবেন এবং সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন কাজ করবেন।

তবে মাস্কের এই রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণের পর থেকেই টেসলার পণ্যের বিক্রি কমতে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ও বর্জনের ডাকের মুখে মাস্ক বলেছেন, তাঁকে এবং তাঁর ডিওজিই দলকে আক্রমণ করতেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ডিওজিইতে তাঁর নির্ধারিত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

টেসলা জানিয়েছে, প্রথম ত্রৈমাসিকে তাদের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারে, যা পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। এরই মধ্যে বাজার ধরে রাখতে টেসলা গাড়ির দামও কমিয়েছে।

এদিকে চীন থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত টেসলার জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও টেসলা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি সংযোজন করে, তবে যন্ত্রাংশের বড় একটি অংশ চীন থেকে আসে। মাস্ক আশঙ্কা করছেন, এই শুল্কের ফলে টেসলার সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটবে এবং খরচ বাড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতিমালা নিয়ে মাস্কের বিরোধ চরমে উঠেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোর সঙ্গে মাস্কের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। মাস্ক সম্প্রতি নাভারোকে ‘নির্বোধ’ বলেও মন্তব্য করেছেন। নাভারো পাল্টা মন্তব্যে বলেন, মাস্ক আসলে গাড়ি নির্মাতা নন, বরং একজন সংযোজনকারী মাত্র।

মাস্ক বলেন, তিনি শুল্ক কমানোর পক্ষেই থাকবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে টেসলার সুষ্ঠু কার্যক্রম বজায় রাখতে চেষ্টা করবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টেসলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।