ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে ৫৮ দিনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 414

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময়সীমা কমিয়ে ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিন নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করায় উপকূলীয় জেলেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই সময়সীমায় সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছ বিশেষত ইলিশ রক্ষা করা।

আরও পড়ুন  ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন

বছরের পর বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ভুগতে হয়েছিল দেশের লাখো জেলে পরিবারকে। এদিকে ভারতের জলসীমায় নিষেধাজ্ঞা থাকত ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ৬১ দিন। ফলে সময়ের ব্যবধানে প্রায় ৩৯ দিন ভারতের মৎস্যজীবীরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যেতেন, যা বাংলাদেশি জেলেদের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হতো।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিলেন উপকূলের জেলেরা। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তারা মানববন্ধন, নৌ-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে সময় পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানান। অবশেষে সরকার তাদের কথা শুনেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় দেশে একই সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এতে জলসীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালীর একজন জেলে জানান, “আগে আমরা যখন সাগরে যেতাম না, তখন ভারতীয় ট্রলারগুলো এসে মাছ ধরে নিয়ে যেত। আমাদের তেমন কিছুই থাকত না। এখন অন্তত সমান সুযোগ পাবো।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতের সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় প্রতিবেশী দেশ লাভবান হতো, আর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতাম। সরকার এবার সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে ঘিরে উপকূলজুড়ে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশার আলো। এবার জেলেরা আশা করছেন, মাছের প্রজনন বাড়বে এবং তাদের জীবন ও জীবিকায় ফিরবে স্থিতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে ৫৮ দিনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৫

 

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময়সীমা কমিয়ে ৬৫ দিনের পরিবর্তে ৫৮ দিন নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করায় উপকূলীয় জেলেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই সময়সীমায় সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো প্রজনন মৌসুমে সামুদ্রিক মাছ বিশেষত ইলিশ রক্ষা করা।

আরও পড়ুন  ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, আলোচনার মাঝেই উত্তেজনা বৃদ্ধি

বছরের পর বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ভুগতে হয়েছিল দেশের লাখো জেলে পরিবারকে। এদিকে ভারতের জলসীমায় নিষেধাজ্ঞা থাকত ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ৬১ দিন। ফলে সময়ের ব্যবধানে প্রায় ৩৯ দিন ভারতের মৎস্যজীবীরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যেতেন, যা বাংলাদেশি জেলেদের জন্য চরম ক্ষতির কারণ হতো।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিলেন উপকূলের জেলেরা। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তারা মানববন্ধন, নৌ-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে সময় পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানান। অবশেষে সরকার তাদের কথা শুনেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের উভয় দেশে একই সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এতে জলসীমা লঙ্ঘনের প্রবণতা বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালীর একজন জেলে জানান, “আগে আমরা যখন সাগরে যেতাম না, তখন ভারতীয় ট্রলারগুলো এসে মাছ ধরে নিয়ে যেত। আমাদের তেমন কিছুই থাকত না। এখন অন্তত সমান সুযোগ পাবো।”

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতের সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় প্রতিবেশী দেশ লাভবান হতো, আর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতাম। সরকার এবার সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে ঘিরে উপকূলজুড়ে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশার আলো। এবার জেলেরা আশা করছেন, মাছের প্রজনন বাড়বে এবং তাদের জীবন ও জীবিকায় ফিরবে স্থিতি।