ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

বাংলাদেশের মানচিত্র হয়তো নতুনভাবে আঁকার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে: রিজওয়ানা হাসান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / 538

ছবি সংগৃহীত

 

জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গভীর হুমকি হয়ে উঠেছে। এমনটাই জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সোমবার ঢাকার ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ‘জাতীয় নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানে শুধু লবণাক্ত পানি নয় এটা মানে আমাদের ভূখণ্ড হারানো, জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এবং সার্বভৌমত্বের সংকট।”

আরও পড়ুন  কবে কমবে তীব্র লোডশেডিং, সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

তিনি সতর্ক করেন, শতকের মাঝামাঝি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি এক মিটার বাড়ে, তবে বাংলাদেশের ২১টি উপকূলীয় জেলা পানিতে ডুবে যেতে পারে, বাস্তুচ্যুত হবে কোটি মানুষ। মিঠা পানির নদীতে লবণ ঢুকে পড়বে, ধ্বংস হবে কৃষি ও মৎস্য খাত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আরো বিপজ্জনক। দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে মিঠা পানির মাছ থেকে। এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। উপদেষ্টা আরও জানান, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরার কারণে দেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়, যা ২০৫০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড যদি পানিতে তলিয়ে যায়, তাহলে বাকি দুই-তৃতীয়াংশে মানুষের চাপ বেড়ে যাবে, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা হয়ে উঠবে নিত্যদিনের বাস্তবতা।”

বিশ্ব রাজনীতিতে জলবায়ু ইস্যুর অবহেলা নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। কিয়োটো চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে, প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নও দুর্বল। অথচ পৃথিবীর ৮০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে মাত্র কয়েকটি উন্নত দেশ G20 দেশগুলো।

“বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো চরম মূল্য দিচ্ছে। যদি সব দেশ প্রতিশ্রুতি মেনে চলে তবুও গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়বে যা মানবজাতির জন্য সহনীয় নয়,” বলেন তিনি।

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় তিনি কার্যকর পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মানচিত্র হয়তো নতুনভাবে আঁকার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে: রিজওয়ানা হাসান

আপডেট সময় ০৭:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

 

জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু একটি পরিবেশগত ইস্যু নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গভীর হুমকি হয়ে উঠেছে। এমনটাই জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সোমবার ঢাকার ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ‘জাতীয় নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানে শুধু লবণাক্ত পানি নয় এটা মানে আমাদের ভূখণ্ড হারানো, জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এবং সার্বভৌমত্বের সংকট।”

আরও পড়ুন  কবে কমবে তীব্র লোডশেডিং, সুখবর দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

তিনি সতর্ক করেন, শতকের মাঝামাঝি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি এক মিটার বাড়ে, তবে বাংলাদেশের ২১টি উপকূলীয় জেলা পানিতে ডুবে যেতে পারে, বাস্তুচ্যুত হবে কোটি মানুষ। মিঠা পানির নদীতে লবণ ঢুকে পড়বে, ধ্বংস হবে কৃষি ও মৎস্য খাত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আরো বিপজ্জনক। দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ তাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে মিঠা পানির মাছ থেকে। এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। উপদেষ্টা আরও জানান, প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরার কারণে দেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়, যা ২০৫০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড যদি পানিতে তলিয়ে যায়, তাহলে বাকি দুই-তৃতীয়াংশে মানুষের চাপ বেড়ে যাবে, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা হয়ে উঠবে নিত্যদিনের বাস্তবতা।”

বিশ্ব রাজনীতিতে জলবায়ু ইস্যুর অবহেলা নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। কিয়োটো চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে, প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নও দুর্বল। অথচ পৃথিবীর ৮০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে মাত্র কয়েকটি উন্নত দেশ G20 দেশগুলো।

“বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো চরম মূল্য দিচ্ছে। যদি সব দেশ প্রতিশ্রুতি মেনে চলে তবুও গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়বে যা মানবজাতির জন্য সহনীয় নয়,” বলেন তিনি।

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় তিনি কার্যকর পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক দায়িত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান।