ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

শৃঙ্খলা ভঙ্গের ৪ অপরাধে চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
  • / 311

ছবি সংগৃহীত

 

 

চারটি নির্দিষ্ট অপরাধে সরকারি কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। রোববার (২৫ মে) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে এই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

আরও পড়ুন  যশোরে গ্রেপ্তার ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী সুস্মিতা পান্ডে ও তার ভাই

এর আগে গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তারা এ অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক’ ও ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দাবি না মানা হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, যা অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া ছুটি ছাড়া বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অন্যদের অনুপস্থিত থাকতে উসকানি দেওয়া কিংবা কর্তব্যে বাধা দেওয়া, এসব কাজও একইভাবে অসদাচরণের আওতাভুক্ত হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে তিন ধরনের শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে নিম্নপদে অবনমন, চাকরি থেকে অপসারণ অথবা চাকরি থেকে বরখাস্ত।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এসব শাস্তি কার্যকর করতে কোনো দীর্ঘ তদন্ত বা শুনানির প্রক্রিয়াও প্রয়োজন হবে না এটি প্রশাসনিকভাবে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, এই বিধান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য আন্দোলনের অধিকার হরণ করবে এবং ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তারা বলছেন, এই আইন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তা সংশোধন না হলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি শৃঙ্খলা ও সেবার মান বজায় রাখতেই এই সংশোধন জরুরি ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা এখনও এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।

নতুন এই আইন কার্যকর হওয়ার পরপরই সচিবালয়ে উত্তেজনা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে যে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আরও বড় পরিসরে প্রতিবাদের কারণ হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শৃঙ্খলা ভঙ্গের ৪ অপরাধে চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন

আপডেট সময় ১১:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

 

 

চারটি নির্দিষ্ট অপরাধে সরকারি কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে সরকার। রোববার (২৫ মে) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে এই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।

আরও পড়ুন  মধ্যরাতে জাবির ছাত্রী হলের রুম থেকে টিপ, প্লাজু পরা যুবক আটক

এর আগে গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তারা এ অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক’ ও ‘কালাকানুন’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দাবি না মানা হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, যা অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া ছুটি ছাড়া বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অন্যদের অনুপস্থিত থাকতে উসকানি দেওয়া কিংবা কর্তব্যে বাধা দেওয়া, এসব কাজও একইভাবে অসদাচরণের আওতাভুক্ত হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে তিন ধরনের শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে নিম্নপদে অবনমন, চাকরি থেকে অপসারণ অথবা চাকরি থেকে বরখাস্ত।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এসব শাস্তি কার্যকর করতে কোনো দীর্ঘ তদন্ত বা শুনানির প্রক্রিয়াও প্রয়োজন হবে না এটি প্রশাসনিকভাবে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, এই বিধান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য আন্দোলনের অধিকার হরণ করবে এবং ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তারা বলছেন, এই আইন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তা সংশোধন না হলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি শৃঙ্খলা ও সেবার মান বজায় রাখতেই এই সংশোধন জরুরি ছিল। তবে আন্দোলনকারীরা এখনও এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।

নতুন এই আইন কার্যকর হওয়ার পরপরই সচিবালয়ে উত্তেজনা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে যে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আরও বড় পরিসরে প্রতিবাদের কারণ হতে পারে।