ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু রাজবাড়ীতে রেলব্রিজে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ছাদে থাকা যুবকের মৃত্যু শাহেদ ধাঁচে নতুন ড্রোন: ব্যাপক উৎপাদনে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘লুকাস’ সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ: ব্যয়ের অসমতায় চাপে প্রচলিত শক্তি আফগানিস্তানে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কমপ্লেক্সের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা বিশ্বজুড়ে তিন দিন ঈদ: আজ, কাল ও পরশু কবে কোথায় জানুন রমজান ২০২৬: বিশ্বের কোথায় কেমন ইফতার আয়োজন খুলনায় একই পরিবারের চারজনকে গুলি, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • / 0

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীতে টিকটকার রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিকল্পিত ‘কিলিং মিশন’-এর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশনায় ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্তসহ একাধিক ব্যক্তি এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা থেকে ৩-৪ দিন আগে ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয় এবং সেখানে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

পুলিশের তথ্যমতে, নিহত রাকিব নিয়মিত শহীদ মিনার এলাকায় ভিডিও ধারণ করতেন। এ কারণে হামলার আগে কয়েক দিন ধরে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

যেভাবে সংঘটিত হয় হামলা

এজাহারে উল্লেখ আছে, গত ১৫ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী একদল হামলাকারী সরাসরি আক্রমণে অংশ নেয়, আর অন্যরা আশপাশে অবস্থান করে সহযোগিতা করে। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং পরে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়—এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্পর্কের জের ও বিরোধের দাবি
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, খুলনার এক কথিত সন্ত্রাসী সাজিদের স্ত্রী জান্নাত মুনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে রাকিবের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়টি কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া, রাকিব সম্প্রতি এক বিবাহিত নারীকে বিয়ে করেছিলেন—এ ঘটনাও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনার জের ধরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর এবং অস্ত্র সরবরাহকারী সালাউদ্দিন ওরফে সাগর রয়েছেন বলে জানানো হয়।

অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত আলামিনসহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে।

নিহতের পরিচয়

নিহত রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা তরিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী।

অভিযান অব্যাহত

পুলিশের দাবি, এই চক্রটি সংগঠিত এবং টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকতে পারে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

আপডেট সময় ১০:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

 

রাজধানীতে টিকটকার রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিকল্পিত ‘কিলিং মিশন’-এর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, খুলনার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নির্দেশনায় ভাড়াটে খুনিদের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল অভিযুক্তসহ একাধিক ব্যক্তি এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনা থেকে ৩-৪ দিন আগে ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয় এবং সেখানে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।

পুলিশের তথ্যমতে, নিহত রাকিব নিয়মিত শহীদ মিনার এলাকায় ভিডিও ধারণ করতেন। এ কারণে হামলার আগে কয়েক দিন ধরে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

যেভাবে সংঘটিত হয় হামলা

এজাহারে উল্লেখ আছে, গত ১৫ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী একদল হামলাকারী সরাসরি আক্রমণে অংশ নেয়, আর অন্যরা আশপাশে অবস্থান করে সহযোগিতা করে। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং পরে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়—এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর অভিযুক্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্পর্কের জের ও বিরোধের দাবি
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, খুলনার এক কথিত সন্ত্রাসী সাজিদের স্ত্রী জান্নাত মুনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে রাকিবের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়টি কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া, রাকিব সম্প্রতি এক বিবাহিত নারীকে বিয়ে করেছিলেন—এ ঘটনাও বিভিন্ন মহলে অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠে বলে পরিবারের দাবি ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনার জের ধরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর এবং অস্ত্র সরবরাহকারী সালাউদ্দিন ওরফে সাগর রয়েছেন বলে জানানো হয়।

অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত আলামিনসহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে।

নিহতের পরিচয়

নিহত রাকিব বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা তরিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী।

অভিযান অব্যাহত

পুলিশের দাবি, এই চক্রটি সংগঠিত এবং টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকতে পারে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।