ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের চাল রফতানিতে নতুন নিয়ম, বাংলাদেশে আমদানিতে বাড়তে পারে ঝুঁকি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 420

ছবি সংগৃহীত

 

ভারত নন-বাসমতী চাল রফতানিতে নতুন নিয়ম চালু করেছে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের দফতর (ডিজিএফটি) বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে নন-বাসমতী চাল রফতানির প্রতিটি চুক্তি ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এপিইডিএ) কাছে নিবন্ধন করতে হবে। এত দিন এই ধরনের চাল রফতানি ছিল ‘মুক্ত ক্যাটাগরি’র আওতায়, তবে নতুন সিদ্ধান্তে এটি ‘শর্তসাপেক্ষ অনুমোদিত’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো।

আরও পড়ুন  কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর গুলি, নিহত অন্তত ২৪

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নন-বাসমতী চালের অন্যতম বড় ক্রেতা। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ৬ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়, যার বেশির ভাগই এসেছিল ভারত থেকে। ফলে নতুন শর্তে বাংলাদেশসহ অন্যান্য আমদানিকারক দেশের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি হতে পারে।

ভারতের রফতানিকারক ফেডারেশনের সভাপতি প্রেম গর্গ এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, আগে শুধু বাসমতী চাল রফতানিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল, এবার নন-বাসমতী চালও একই কাঠামোর আওতায় আসায় রফতানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।

সরকারি নির্দেশনা অনুসারে, প্রতি টন নন-বাসমতী চাল রফতানির জন্য নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে ৮ রুপি। বর্তমানে প্রতিবছর ভারত ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টন নন-বাসমতী চাল রফতানি করে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে ১০০ কোটিরও বেশি রুপি রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নন-বাসমতী চাল বহু বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পণ্য। হঠাৎ নীতি পরিবর্তনের কারণে অতীতেও অনেক রফতানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে আমদানিকারক দেশগুলোতেও।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির সরকারি গুদামে চাল ও গমের মজুত রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালের মজুত দাঁড়িয়েছে ৪৮.২ মিলিয়ন টনে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে গমের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৩ মিলিয়ন টনে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ একসময় চাল আমদানির জন্য ভারতের ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকলেও এখন অন্যান্য দেশ থেকেও চাল আনা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করেছে, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ভারত থেকে এসেছে প্রায় ৮ লাখ টন, যা ভারতের মোট রফতানির ৫.৫ শতাংশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের চাল রফতানিতে নতুন নিয়ম, বাংলাদেশে আমদানিতে বাড়তে পারে ঝুঁকি

আপডেট সময় ১১:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

ভারত নন-বাসমতী চাল রফতানিতে নতুন নিয়ম চালু করেছে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের দফতর (ডিজিএফটি) বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে নন-বাসমতী চাল রফতানির প্রতিটি চুক্তি ভারতের কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এপিইডিএ) কাছে নিবন্ধন করতে হবে। এত দিন এই ধরনের চাল রফতানি ছিল ‘মুক্ত ক্যাটাগরি’র আওতায়, তবে নতুন সিদ্ধান্তে এটি ‘শর্তসাপেক্ষ অনুমোদিত’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো।

আরও পড়ুন  খাদ্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক, চাল আমদানির প্রয়োজন পড়বে না: খাদ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নন-বাসমতী চালের অন্যতম বড় ক্রেতা। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ৬ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়, যার বেশির ভাগই এসেছিল ভারত থেকে। ফলে নতুন শর্তে বাংলাদেশসহ অন্যান্য আমদানিকারক দেশের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি হতে পারে।

ভারতের রফতানিকারক ফেডারেশনের সভাপতি প্রেম গর্গ এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, আগে শুধু বাসমতী চাল রফতানিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল, এবার নন-বাসমতী চালও একই কাঠামোর আওতায় আসায় রফতানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।

সরকারি নির্দেশনা অনুসারে, প্রতি টন নন-বাসমতী চাল রফতানির জন্য নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে ৮ রুপি। বর্তমানে প্রতিবছর ভারত ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টন নন-বাসমতী চাল রফতানি করে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে ১০০ কোটিরও বেশি রুপি রাজস্ব আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নন-বাসমতী চাল বহু বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পণ্য। হঠাৎ নীতি পরিবর্তনের কারণে অতীতেও অনেক রফতানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে আমদানিকারক দেশগুলোতেও।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির সরকারি গুদামে চাল ও গমের মজুত রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালের মজুত দাঁড়িয়েছে ৪৮.২ মিলিয়ন টনে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে গমের মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৩ মিলিয়ন টনে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ একসময় চাল আমদানির জন্য ভারতের ওপর বেশি নির্ভরশীল থাকলেও এখন অন্যান্য দেশ থেকেও চাল আনা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করেছে, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ভারত থেকে এসেছে প্রায় ৮ লাখ টন, যা ভারতের মোট রফতানির ৫.৫ শতাংশ।