সালমান পোস্ট সরালেও জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন তথ্য উপদেষ্টার
- আপডেট সময় ০৫:১৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির তার আগের পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া স্ট্যাটাস বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে অপতথ্য মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ওই বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দলের রাজনীতি করা কেউ সরকারের কোনো সমস্যা পেলে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইবেন, এটি স্বাভাবিক। বিরোধী দলে থাকলে তারাও একইভাবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সালমান মুক্তাদির পরবর্তীতে তার পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও সেই ঘটনার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা স্ট্যাটাস বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সালমান যখন নিজের বক্তব্য বা পোস্ট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তখন তার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য থেকেও সংশ্লিষ্টদের সরে আসা উচিত ছিল। জামায়াতের আমিরও ওই পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নতুন করে অবস্থান পরিষ্কার করতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্টরা চাইলে বলতে পারতেন, আগে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন; পরে তথ্য পরিবর্তিত হওয়ায় তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তার মতে, অপতথ্য মোকাবিলায় শুধু আইনি সুরক্ষা নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঘটনার পর সালমান প্রথমে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। পরে তিনি জানান, চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত নন। জনপ্রিয় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে, জানতে চান সাংবাদিক।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সালমানের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ সেই তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন। পরে সালমান নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি চাঁদাবাজির ঘটনা নয় বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তার স্টুডিও ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে সরকার সাফাই গাইছে না বলেও স্পষ্ট করেন জাহেদ উর রহমান। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না এবং তা ঠেকাতে পারা উচিত ছিল। এখন সরকারের দায়িত্ব দ্রুত তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা।
সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা ঘিরে অপতথ্য ছড়ানোর প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে অপতথ্য এখন বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তির ব্যাপক ‘রিচ’, ‘ভয়েস’ ও ‘ট্র্যাকশন’ রয়েছে, তাদের তথ্য প্রকাশ ও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি আশা করেন সালমান মুক্তাদিরের মতো ব্যাপক পরিচিতি ও অনুসারী থাকা ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবেন।
অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে কাজ চলছে।
তার ভাষ্য, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি অপতথ্য মোকাবিলার বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আইনটি কার্যকর হলে এসব বিষয়ে আইনি পরিসরের মধ্যে কাজ করা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।






















