এক কোটি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে কাজ করছে সরকার: নুরুল হক নুর
- আপডেট সময় ১১:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 39
বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী দিনে এক কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে কোন ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, তা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নুরুল হক নুর বলেন, কেবল বিদেশে কর্মী পাঠানোর মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। একজন কর্মী যে দেশে কাজ করতে যাবেন, সেখানকার কর্মক্ষেত্রের চাহিদা, ভাষা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়েই যেন যেতে পারেন, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কর্মীদের ভালো বেতন ও মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যেসব পেশার চাহিদা তুলনামূলক বেশি, সেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশগামী অনেক মানুষ এ ধরনের ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ সমস্যা কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনের আওতায় আনার কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে এবং প্রতারণার সুযোগ কমবে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকায় স্বীকৃত সাব-এজেন্সি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ কমিয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।





















