ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনে বৈঠকের পর নিরপেক্ষতা হারালেন প্রধান উপদেষ্টা: অভিযোগ জামায়াতের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 616

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরে।

আরও পড়ুন  বিগ–বি প্রকল্পে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

জামায়াত জানায়, ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিকে তারা ‘স্বাভাবিক’ বলে মনে করলেও, বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং ও বিবৃতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করাকে যথোপযুক্ত মনে করেনি দলটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে গেছেন। দেশে ফিরে এসে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অভিমত প্রকাশ করা অধিকতর উপযুক্ত হতো।”

জামায়াতের দাবি, এই ধরনের একতরফা অবস্থান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং তা জনগণের মনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করে, যেখানে দেশে বিভিন্ন মত ও পথের বহু রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছে, সেখানে কেবল একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দলটি আবারও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের দাবি তোলে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও সাহসিকতাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার দলনিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়া, বিচার ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তিনি জাতির সামনে তার ভূমিকা পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করেন এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

লন্ডনে বৈঠকের পর নিরপেক্ষতা হারালেন প্রধান উপদেষ্টা: অভিযোগ জামায়াতের

আপডেট সময় ০৭:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরে।

আরও পড়ুন  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত।

জামায়াত জানায়, ১৩ জুন লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটিকে তারা ‘স্বাভাবিক’ বলে মনে করলেও, বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং ও বিবৃতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করাকে যথোপযুক্ত মনে করেনি দলটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে গেছেন। দেশে ফিরে এসে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অভিমত প্রকাশ করা অধিকতর উপযুক্ত হতো।”

জামায়াতের দাবি, এই ধরনের একতরফা অবস্থান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং তা জনগণের মনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করে, যেখানে দেশে বিভিন্ন মত ও পথের বহু রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছে, সেখানে কেবল একটি দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দলটি আবারও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের দাবি তোলে এবং সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ ও সাহসিকতাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার দলনিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়া, বিচার ও সংস্কারমূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তিনি জাতির সামনে তার ভূমিকা পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করেন এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।