বড় পরিবর্তনের পথে আছি, এজন্য চীনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — ড. ইউনূস
বিশ্বজুড়ে একটি বড় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মাদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এটি কেবল মেরামতের সময় নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন এক পৃথিবী গড়ার প্রয়োজন রয়েছে।” সম্প্রতি চীন সফরকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিএমজি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফরে ছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। সফরকালে তিনি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, “বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংস্কারের পথে রয়েছে। এই পরিবর্তন সফল করতে চীনের সহায়তা ও সমর্থন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সভ্যতা আত্মঘাতী পথে এগোচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে এসে ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য দারিদ্র্য নির্মাণই হতে পারে মানবজাতির পরিত্রাণের পথ।
অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বাস করেন, নতুন পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব বর্তাবে তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাদের সম্ভাবনা উন্মোচনে দরকার উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ। “তরুণদের জন্য দরজা খুলে দিতে হবে, বাধা নয় বরং প্রেরণা দিতে হবে তাদের,” বলেন তিনি।
চীন সফরে অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনী সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং বলেন, “এই নতুন পৃথিবী গঠনে একটি দেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সম্মিলিতভাবে এগোতে হবে। চীন ইতোমধ্যেই অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারি, এগিয়ে যেতে পারি।”
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সামাজিক ব্যবসার দর্শন এবং নতুন অর্থনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে বেশ পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে সংস্কার চলছে, তা বিশ্বদৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করছে।
নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে হলে, এখনই সময় সাহসী পদক্ষেপের এমন বার্তাই দিলেন অধ্যাপক মুহাম্মাদ ইউনূস।