স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৮:৩১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 58
ফেনীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবারও এক হয়েছে। অতীতেও তারা স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে গোপনে একযোগে কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি এসব রাজনৈতিক দলের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, অতীতেও স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে একটি দল গোপনে একসঙ্গে ছিল। এ কারণে তাদের গুপ্ত দল বলা হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা যখন জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তখন এসব দলের ভূমিকা কী ছিল, তা মানুষ জানে।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব দল দেশের মানুষের জন্য নয়, বরং নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দেশের মানুষ ইতিমধ্যে বুঝে গেছে। তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নিজেদের স্বার্থেই কাজ করবে, দেশের জন্য কিছু করবে না।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, একটি দল নির্বাচনের আগে বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলেছে। অথচ বেহেশত ও দোজখের মালিক আল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তারা প্রকারান্তরে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে, তারা মানুষের সঙ্গেও প্রতারণা করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা এক দফা, এক দফা বলে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এ কারণে নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করা দলগুলোর বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের পারিবারিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর তিনি তাঁর নানার বাড়ি ফেনীতে এসেছেন। তাঁর মা আর বেঁচে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ যেন তাঁকে আপনজনের মতো দেখে রাখেন।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করলে কৃষক, দিনমজুর, অসহায় ও দুস্থ মানুষ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং পুরোহিতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছিল বিএনপি। তাঁদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।
সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের উন্নয়নের রাজনীতি করে। বিগত সরকারের সময়ে দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
কলকারখানা চালু হলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণকে সামান্য সহযোগিতা করতে পারলেও তাঁরা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য গড়ে তুলতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের ৭৭টি উপজেলায় কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় ফেনীতে ১০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড, ১০ জন কৃষক-কৃষাণীকে কৃষি কার্ড এবং ১০ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতকে বার্ষিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়।






















