ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আগামী জুনে নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন অধ্যাপক ইউনূস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 650

ছবি সংগৃহীত

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার অগ্রযাত্রা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৮ মে) জাপানে চার দিনের সফরের প্রথম দিনে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের (জেবিপিএফএল) প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  জার্মানিতে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় ফেরার পথে সিডিইউ, থাকতে পারে ঝুঁকি

‘নিক্কেই ফোরাম ফর এশিয়া’য় অংশ নিতে এবং জাপানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে টোকিও পৌঁছান অধ্যাপক ইউনূস।

তারো আসো অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে জোরদার করার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার, ছাত্র-জনতার হত্যার বিচার ও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, ঋণ পরিশোধে অগ্রগতি হয়েছে। অর্থনীতির অনেক খাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। তরুণদের সেই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই তরুণদের আহ্বানে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।”

অধ্যাপক ইউনূস জাপানের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে তারো আসোকে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে উপস্থিত জাপানি আইনপ্রণেতারা জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এ বিষয়ে আগস্টের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত করে সেপ্টেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে জাপান হবে বাংলাদেশের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যা অন্যান্য শরণার্থী সংকটের চেয়ে আলাদা। তারা অন্য কোথাও নয়, বরং নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে চায়।” তিনি এ বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামী জুনে নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন অধ্যাপক ইউনূস

আপডেট সময় ০৮:২৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার অগ্রযাত্রা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৮ মে) জাপানে চার দিনের সফরের প্রথম দিনে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের (জেবিপিএফএল) প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন  জনগণ নির্বাচনমুখী হলে কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

‘নিক্কেই ফোরাম ফর এশিয়া’য় অংশ নিতে এবং জাপানি নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করতে স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে টোকিও পৌঁছান অধ্যাপক ইউনূস।

তারো আসো অধ্যাপক ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সাধারণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে জোরদার করার আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার, ছাত্র-জনতার হত্যার বিচার ও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, ঋণ পরিশোধে অগ্রগতি হয়েছে। অর্থনীতির অনেক খাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।”

তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। তরুণদের সেই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতেই তরুণদের আহ্বানে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।”

অধ্যাপক ইউনূস জাপানের অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে তারো আসোকে আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে উপস্থিত জাপানি আইনপ্রণেতারা জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এ বিষয়ে আগস্টের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত করে সেপ্টেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের আশা প্রকাশ করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে জাপান হবে বাংলাদেশের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যা অন্যান্য শরণার্থী সংকটের চেয়ে আলাদা। তারা অন্য কোথাও নয়, বরং নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে চায়।” তিনি এ বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ।