ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

যেসব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যাবে না

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / 10

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কুরআনে আট শ্রেণির মানুষকে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত গণ্য করে আল্লাহতাআলা বলেছেন, নিশ্চয় সদকা হচ্ছে দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; তা বণ্টন করা যায় দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তওবা: ৬০)

এ আয়াত অনুযায়ী জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত আট শ্রেণির মানুষ হলেন:
ফকির; যার কিছুই নেই।
মিসকিন; যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।
জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী।
আর্থিক সংকটে থাকা নওমুসলিম।
ক্রীতদাস। (মুক্ত হওয়ার জন্য)
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
আল্লাহর পথে জিহাদে রত ব্যক্তি।
মুসাফির; স্বদেশে ধনী হলেও যিনি ভ্রমণকালে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং দেশ থেকে অর্থ এনে নিজের প্রয়োজন পূরণ করার উপায়ও নেই।

আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কেউ এই শ্রেণীগুলোর মধ্যে পড়লে অর্থাৎ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে আত্মীয়তার স্তর হিসেবে অনেককে জাকাত দেওয়া যায়, অনেককে জাকাত দেওয়া যায় না।

জাকাত দেওয়া যায় না ৩ ধরনের আত্মীয়কে:
জাকাতদাতার সরাসরি উর্ধ্বতন আত্মীয় যেমন বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা, পরদাদি, পরনানা, পরনানিসহ সরাসরি ওপরের দিকে যারা আছে, তাদের জাকত দেওয়া যায় না।,
জাকাতদাতার সরাসরি সন্তান বা বংশধর যেমন পুত্র-কন্যা, পৌত্র-পৌত্রী, দৌহিত্র-দৌহিত্রী, এভাবে সরাসরি নীচের দিকের কাউকে জাকাত দেওয়া যায় না।,
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারে না।
এই তিন ধরনের আত্মীয়রা যদি অভাবগ্রস্ত হন, তাহলে নিজের সাধারণ সম্পদ থেকেই যথাসাধ্য তাদের সাহায্য করা কর্তব্য। তাই তাদের জাকাত দেওয়া যায় না।

এ ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন যেমন ভাই-বোন, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা, মামা-মামি, চাচা-চাচি, শশুর-শাশুড়ি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাদের জাকাত দেওয়া যায়। আত্মীয়দের মধ্যে অভাবী কেউ থাকলে তাকেই জাকাত দেওয়া উত্তম। তাতে একইসাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও জাকাত আদায় উভয় আমলের সওয়াবই পাওয়া যায়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, সাধারণ অভাবীদের সদকা করলে তা শুধু সদকা হয়, আর আত্মীয়দের দিলে তা সদকা হয়, আত্মীয়তার হক আদায়ও হয়। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৯৪, সুনানে নাসাঈ: ২৫৮২)

জাকাত ইসলামের ফরজ বিধান, ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান পুরুষ ও নারীর প্রতি বছর নিজের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে জাকাত বলা হয়।

জাকাতের হিসাব করবেন যেভাবে
কেউ যদি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পত্তি অর্থাৎ ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্যের মালিক থাকে অথবা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণের মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ তার কাছে থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে সম্পদশালী ব্যক্তি গণ্য হবে এবং তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে। নগদ অর্থ, স্বর্ণ/রৌপ্য বা ব্যবসায়ের সম্পদ যেদিন নেসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু হবে। জাকাতের বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে ওই ব্যক্তির মালিকানায় যে পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থ, ব্যবসায়ের সম্পদ, স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকবে, তার ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে দান করে দিতে হবে।

হিজরি ক্যালেন্ডার হিসেবে প্রতি বছর একবার জাকাতের হিসাব করতে হয়। আমাদের দেশে অনেকে রমজান মাসে জাকাতের হিসাব করে থাকেন। জাকাতের হিসাব করার পর সাথে সাথে পুরো অর্থ আদায় করা জরুরি নয়, বরং ওই অর্থ সারা বছরই অল্প অল্প করে আদায় করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

যেসব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যাবে না

আপডেট সময় ১১:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

পবিত্র কুরআনে আট শ্রেণির মানুষকে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত গণ্য করে আল্লাহতাআলা বলেছেন, নিশ্চয় সদকা হচ্ছে দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; তা বণ্টন করা যায় দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা তওবা: ৬০)

এ আয়াত অনুযায়ী জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত আট শ্রেণির মানুষ হলেন:
ফকির; যার কিছুই নেই।
মিসকিন; যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।
জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী।
আর্থিক সংকটে থাকা নওমুসলিম।
ক্রীতদাস। (মুক্ত হওয়ার জন্য)
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
আল্লাহর পথে জিহাদে রত ব্যক্তি।
মুসাফির; স্বদেশে ধনী হলেও যিনি ভ্রমণকালে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং দেশ থেকে অর্থ এনে নিজের প্রয়োজন পূরণ করার উপায়ও নেই।

আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে কেউ এই শ্রেণীগুলোর মধ্যে পড়লে অর্থাৎ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে আত্মীয়তার স্তর হিসেবে অনেককে জাকাত দেওয়া যায়, অনেককে জাকাত দেওয়া যায় না।

জাকাত দেওয়া যায় না ৩ ধরনের আত্মীয়কে:
জাকাতদাতার সরাসরি উর্ধ্বতন আত্মীয় যেমন বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা, পরদাদি, পরনানা, পরনানিসহ সরাসরি ওপরের দিকে যারা আছে, তাদের জাকত দেওয়া যায় না।,
জাকাতদাতার সরাসরি সন্তান বা বংশধর যেমন পুত্র-কন্যা, পৌত্র-পৌত্রী, দৌহিত্র-দৌহিত্রী, এভাবে সরাসরি নীচের দিকের কাউকে জাকাত দেওয়া যায় না।,
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দিতে পারে না।
এই তিন ধরনের আত্মীয়রা যদি অভাবগ্রস্ত হন, তাহলে নিজের সাধারণ সম্পদ থেকেই যথাসাধ্য তাদের সাহায্য করা কর্তব্য। তাই তাদের জাকাত দেওয়া যায় না।

এ ছাড়া অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন যেমন ভাই-বোন, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা, মামা-মামি, চাচা-চাচি, শশুর-শাশুড়ি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাদের জাকাত দেওয়া যায়। আত্মীয়দের মধ্যে অভাবী কেউ থাকলে তাকেই জাকাত দেওয়া উত্তম। তাতে একইসাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও জাকাত আদায় উভয় আমলের সওয়াবই পাওয়া যায়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, সাধারণ অভাবীদের সদকা করলে তা শুধু সদকা হয়, আর আত্মীয়দের দিলে তা সদকা হয়, আত্মীয়তার হক আদায়ও হয়। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৯৪, সুনানে নাসাঈ: ২৫৮২)

জাকাত ইসলামের ফরজ বিধান, ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান পুরুষ ও নারীর প্রতি বছর নিজের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে জাকাত বলা হয়।

জাকাতের হিসাব করবেন যেভাবে
কেউ যদি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পত্তি অর্থাৎ ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্যের মালিক থাকে অথবা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণের মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ তার কাছে থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে সম্পদশালী ব্যক্তি গণ্য হবে এবং তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে। নগদ অর্থ, স্বর্ণ/রৌপ্য বা ব্যবসায়ের সম্পদ যেদিন নেসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু হবে। জাকাতের বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে ওই ব্যক্তির মালিকানায় যে পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থ, ব্যবসায়ের সম্পদ, স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকবে, তার ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে দান করে দিতে হবে।

হিজরি ক্যালেন্ডার হিসেবে প্রতি বছর একবার জাকাতের হিসাব করতে হয়। আমাদের দেশে অনেকে রমজান মাসে জাকাতের হিসাব করে থাকেন। জাকাতের হিসাব করার পর সাথে সাথে পুরো অর্থ আদায় করা জরুরি নয়, বরং ওই অর্থ সারা বছরই অল্প অল্প করে আদায় করা যায়।