ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গুয়াতেমালা: প্রাচীন সভ্যতা আর আগ্নেয়গিরির দেশ অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী অ্যাপোলোর পর এবার আর্টেমিস: চন্দ্রাভিযানের নতুন অধ্যায় দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নৃশংসতা প্রেমিকাকে হত্যার পর, দেহ ফ্রিজে রাখলেন নৌবাহিনীর কর্মী অভাব ভুলে আনন্দ দিতেই ভিডিও করেন তাজু: নেপথ্যে এক জীবন সংগ্রামের গল্প মৌলভীবাজারে মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: ৪৫০ পদে আবেদনের সুযোগ খাগড়াছড়িতে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই যুদ্ধ শেষের ছক ট্রাম্পের: বদলে যাচ্ছে মার্কিন রণকৌশল

ম্যারাডোনার মৃত্যু : চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে সাক্ষ্য দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / 200

ছবি সংগৃহীত

 

ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর প্রথম যে কজন সেখানে পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা লুকাস ফারিয়াস। গতকাল সান ইসিদরো আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন যে, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার কক্ষে কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর যে বাড়িতে তিনি ছিলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের অনুপস্থিতি তাঁকে বিস্মিত করেছে।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ম্যারাডোনা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস এইরেসের এক ভাড়া করা বাড়িতে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কোকেন ও মদ্যপানের আসক্তির কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা এমনিতেই নাজুক ছিল।

আরও পড়ুন  মোহাম্মদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছিনতাইকারী ও ডাকাতসহ ১০ জন গ্রেপ্তার

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত আটজনের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছে। আদালতে কৌঁসুলিরা তাঁর শেষ সময়কে বর্ণনা করেছেন “হরর থিয়েটার” হিসেবে। লুকাস বলেন, “আমি কোনো সিরাম বা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেখিনি, যা সাধারণত একজন গুরুতর রোগীর জন্য প্রয়োজনীয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটাও ছিল অপ্রতুল।”

পুলিশ কর্মকর্তার আরও বক্তব্য, “আমি যখন ম্যারাডোনার কক্ষে প্রবেশ করি, তাঁর মুখের অবস্থা এবং তলপেট এতটাই ফুলে ছিল যে মনে হচ্ছিল বিস্ফোরণ ঘটবে। ওভাবে তাঁকে দেখে আমি শিউরে উঠেছিলাম। কখনো ভাবিনি, এমন দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হবে।”

সান ইসিদরো আদালতে গত সপ্তাহে এই বিচার শুরু হয়। লুকাসসহ চারজন পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে প্রমাণাদি দাখিল করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন নিউরোসার্জন, একজন মনোরোগবিদ, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর, একজন নার্স কো-অর্ডিনেটর, একজন চিকিৎসক এবং রাতের পালার এক নার্স। দিনের শিফটে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বিচার হবে আলাদাভাবে।

কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলার শিকার হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন ম্যারাডোনা। তাঁকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যখন তাঁর জন্য প্রয়োজন ছিল নিবিড় চিকিৎসা।

দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের আট থেকে ২৫ বছরের জেল হতে পারে। এই মামলায় প্রায় ১২০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যা চলতে পারে আগামী জুলাই পর্যন্ত। ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তিকে ঘিরে এমন একটি বিচারিক প্রক্রিয়া এখন আর্জেন্টিনার আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ম্যারাডোনার মৃত্যু : চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে সাক্ষ্য দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

আপডেট সময় ১২:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

 

ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর প্রথম যে কজন সেখানে পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা লুকাস ফারিয়াস। গতকাল সান ইসিদরো আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন যে, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার কক্ষে কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর যে বাড়িতে তিনি ছিলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের অনুপস্থিতি তাঁকে বিস্মিত করেছে।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ম্যারাডোনা না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর বুয়েনস এইরেসের এক ভাড়া করা বাড়িতে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কোকেন ও মদ্যপানের আসক্তির কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা এমনিতেই নাজুক ছিল।

আরও পড়ুন  পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা আনা হবে: অর্থ উপদেষ্টা

ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত আটজনের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে বিচার চলছে। আদালতে কৌঁসুলিরা তাঁর শেষ সময়কে বর্ণনা করেছেন “হরর থিয়েটার” হিসেবে। লুকাস বলেন, “আমি কোনো সিরাম বা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেখিনি, যা সাধারণত একজন গুরুতর রোগীর জন্য প্রয়োজনীয়। ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটাও ছিল অপ্রতুল।”

পুলিশ কর্মকর্তার আরও বক্তব্য, “আমি যখন ম্যারাডোনার কক্ষে প্রবেশ করি, তাঁর মুখের অবস্থা এবং তলপেট এতটাই ফুলে ছিল যে মনে হচ্ছিল বিস্ফোরণ ঘটবে। ওভাবে তাঁকে দেখে আমি শিউরে উঠেছিলাম। কখনো ভাবিনি, এমন দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হবে।”

সান ইসিদরো আদালতে গত সপ্তাহে এই বিচার শুরু হয়। লুকাসসহ চারজন পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে প্রমাণাদি দাখিল করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন নিউরোসার্জন, একজন মনোরোগবিদ, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর, একজন নার্স কো-অর্ডিনেটর, একজন চিকিৎসক এবং রাতের পালার এক নার্স। দিনের শিফটে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বিচার হবে আলাদাভাবে।

কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলার শিকার হয়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন ম্যারাডোনা। তাঁকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যখন তাঁর জন্য প্রয়োজন ছিল নিবিড় চিকিৎসা।

দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের আট থেকে ২৫ বছরের জেল হতে পারে। এই মামলায় প্রায় ১২০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যা চলতে পারে আগামী জুলাই পর্যন্ত। ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তিকে ঘিরে এমন একটি বিচারিক প্রক্রিয়া এখন আর্জেন্টিনার আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।