ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবে ভোট দিয়ে ভুল! ক্ষমা চাইলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 126

ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনা এক প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। দেশটির ঐতিহ্যগত রুশপ্রীতির বিপরীতে গিয়ে এই ভোট দেওয়াকে ‘ভুল’ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে সার্বিয়া ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল, যা কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। কিন্তু এরপরই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রুশপন্থী জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বলেন, ‘আমি মনে করি, সার্বিয়া ভুল করেছে। আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। আমিও ভুল করেছি।’

আরও পড়ুন  জাতিসংঘে বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন আজ

তবে সার্বিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুলিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এটিকে ভুল বলে মনে করি না। কারণ, একজন প্রকৃত সার্ব কখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আগে দুইবার ভাববে।’ তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক বিভক্তির ইঙ্গিত বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রুশ ঘনিষ্ঠতার পেছনে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। সোভিয়েত যুগে সার্বিয়া ছিল কমিউনিজমের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি এবং যুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসেবে মস্কোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। যদিও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবুও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক মৈত্রী সহজে ভাঙার নয়।

জাতিসংঘে সার্বিয়ার এই অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিক কোন পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একদিকে পশ্চিমা জোটের চাপ, অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতি ঐতিহ্যগত আনুগত্য—এই দুই অবস্থানের মাঝখানে পড়ে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এখন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবে ভোট দিয়ে ভুল! ক্ষমা চাইলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় ০৫:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

জাতিসংঘে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনা এক প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। দেশটির ঐতিহ্যগত রুশপ্রীতির বিপরীতে গিয়ে এই ভোট দেওয়াকে ‘ভুল’ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে সার্বিয়া ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল, যা কার্যত রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। কিন্তু এরপরই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রুশপন্থী জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ বলেন, ‘আমি মনে করি, সার্বিয়া ভুল করেছে। আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। আমিও ভুল করেছি।’

আরও পড়ুন  জাতিসংঘের জুলাই অভ্যুত্থান রিপোর্টকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সংরক্ষণে রুল জারি

তবে সার্বিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ভুলিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি এটিকে ভুল বলে মনে করি না। কারণ, একজন প্রকৃত সার্ব কখনো রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আগে দুইবার ভাববে।’ তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক বিভক্তির ইঙ্গিত বহন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সার্বিয়ার দীর্ঘদিনের রুশ ঘনিষ্ঠতার পেছনে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। সোভিয়েত যুগে সার্বিয়া ছিল কমিউনিজমের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি এবং যুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসেবে মস্কোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। যদিও বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তবুও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক মৈত্রী সহজে ভাঙার নয়।

জাতিসংঘে সার্বিয়ার এই অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ কূটনীতির দিক কোন পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একদিকে পশ্চিমা জোটের চাপ, অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতি ঐতিহ্যগত আনুগত্য—এই দুই অবস্থানের মাঝখানে পড়ে প্রেসিডেন্ট ভুচিচ এখন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।