সৌদি আরামকোর কার্যালয়ে হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন
- আপডেট সময় ০৮:৪৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 40
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দাহরান কার্যালয়ে হামলায় একটি ভবনের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের এ হামলার পর সৌদি আরবের দিকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাল্টাপাল্টি হামলায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত আরামকোর কার্যালয় কমপ্লেক্সে হামলার পর একটি অফিস ভবনের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনটিতে আগুন ধরে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও হতাহতের তথ্য স্পষ্ট নয়।
আরামকোর দাহরান কার্যালয় থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার ও রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করা হয়। ফলে এ স্থাপনায় হামলা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে বুধবার সৌদি আরবের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন আরব নাগরিক আহত হন। এ ঘটনায় একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় জ্বালানি ডিপো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এর জবাবে হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। এসব স্থাপনাকে তিনি ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে উল্লেখ করেন।
ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে আঘাত হানবে হুথিরা। এর আগে তিনি সৌদি তেল স্থাপনার আশপাশে থাকা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
হামলার আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে শহরটিতে জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে ইয়েমেনের তেল কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের মজুতকেন্দ্রগুলো খালি ছিল। ফলে সৌদি হামলায় তেলের মজুত কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।
অন্যদিকে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫টি বাড়ি। আহতদের মধ্যে দুই নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এ সংঘাতের ধারাবাহিকতায় সৌদি স্থাপনাগুলোতে হুথিদের হামলা জোরদার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। রোববারের হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের সরকারপন্থি বাহিনী মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। তাইজ প্রদেশে মোট নয়টি হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ধুবাব জেলায় এবং চারটি আল-মাসরাখ জেলায়।
তাইজ শহরের দক্ষিণে আল-শাকাব এলাকায় সরকারপন্থি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাইজ মিলিটারি অ্যাক্সিস মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে।
এ ছাড়া ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজে হুথিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়েশিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন।
সংগঠনটির দাবি, হুথিরা আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে, যাতে অন্তত সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় তাইজজুড়ে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।


























