ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, শিশুসহ শতাধিক প্রাণহানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 12

ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা উল্টে শিশুসহ অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জিবুতির ওবক থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটিতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় এখনো ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকাডুবির পর প্রাণে বেঁচেছেন প্রায় ৮০ জন।

রোববার (১১ অক্টোবর) এডেন উপসাগরের বাব-আল-মান্দেব প্রণালির কাছে এ নৌকাডুবির খবর জানা যায়। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, গত ৮ ও ৯ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে জিবুতির ওবকের উত্তরে গুহের এলাকার কাছে নৌকাটি উল্টে যায়।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ১৫টি শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯ জন মেয়ে ও ৬ জন ছেলে।

আরও পড়ুন  ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবিতে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ২ শিশু

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রায় ৮০ জনই ইথিওপিয়ার নাগরিক। তবে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রীকে কেন একটি নৌকায় তোলা হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁরা ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনায় ইথিওপিয়া সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জীবিকা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অভিবাসীদের যাত্রার ঘটনা নতুন নয়। বাব-আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বহু মানুষ ইয়েমেনে প্রবেশ করেন। পরে তাঁদের অনেকে সেখান থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েন।

গৃহযুদ্ধ, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিকল্প আশ্রয় ও জীবিকার সন্ধানে অনেক মানুষ নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। নিরাপদ আশ্রয় এবং উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অভিবাসী ঝুঁকি নিয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়েছেন। ২০২৫ সালে একই পথে যাত্রার সময় দুর্ঘটনায় প্রায় ৯০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল।

এ ঘটনায় আইওএম এক বিবৃতিতে প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানায়, জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে অভিবাসীদের কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইওএমের দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, শিশুসহ শতাধিক প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৭:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

লোহিত সাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা উল্টে শিশুসহ অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জিবুতির ওবক থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটিতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় এখনো ১১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকাডুবির পর প্রাণে বেঁচেছেন প্রায় ৮০ জন।

রোববার (১১ অক্টোবর) এডেন উপসাগরের বাব-আল-মান্দেব প্রণালির কাছে এ নৌকাডুবির খবর জানা যায়। জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, গত ৮ ও ৯ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে জিবুতির ওবকের উত্তরে গুহের এলাকার কাছে নৌকাটি উল্টে যায়।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ১৫টি শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯ জন মেয়ে ও ৬ জন ছেলে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় বিদেশি অপরাধীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি, কঠোর নজরদারির ঘোষণা পুলিশের

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রায় ৮০ জনই ইথিওপিয়ার নাগরিক। তবে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রীকে কেন একটি নৌকায় তোলা হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁরা ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনায় ইথিওপিয়া সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জীবিকা ও উন্নত জীবনের সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অভিবাসীদের যাত্রার ঘটনা নতুন নয়। বাব-আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বহু মানুষ ইয়েমেনে প্রবেশ করেন। পরে তাঁদের অনেকে সেখান থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েন।

গৃহযুদ্ধ, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিকল্প আশ্রয় ও জীবিকার সন্ধানে অনেক মানুষ নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। নিরাপদ আশ্রয় এবং উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি জমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অভিবাসী ঝুঁকি নিয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়েছেন। ২০২৫ সালে একই পথে যাত্রার সময় দুর্ঘটনায় প্রায় ৯০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল।

এ ঘটনায় আইওএম এক বিবৃতিতে প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানায়, জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে অভিবাসীদের কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইওএমের দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।