কলকাতায় মুসলিমদের পানি না দেওয়ার অভিযোগ, জাতিসংঘে তৃণমূল সাংসদের চিঠি
- আপডেট সময় ০৯:১৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 30
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে মুসলিম বাসিন্দাদের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমীরুল ইসলাম। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির একটি অনুলিপি প্রকাশ করে সমীরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কলোনির বাসিন্দারা মুসলিম হওয়ায় এবং বিজেপির তথাকথিত ‘ভোট ব্যাংক’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত না হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে লেখা চিঠিতে সমীরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জ্যোতি নগর কলোনির পানির সংকটকে কেবল পৌরসভার পরিষেবাসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাসিন্দাদের মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িত।
চিঠিতে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানীয় জল থেকে মানুষকে বঞ্চিত রাখা সাধারণ পৌর সমস্যা নয়। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়া জাতিসংঘ স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। এ সংকটের কারণে কলোনির বাসিন্দারা স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও উপযুক্ত জীবনমান বজায় রাখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সমীরুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছেন না। জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য মৌলিক অধিকারটুকুই তাঁদের প্রয়োজন।
চিঠিতে পানির সংকটের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, খাবার পানির তীব্র সংকট ছড়িয়ে পড়লে তা বড় ধরনের সংক্রামক রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দারা কেন দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জল পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সমীরুল ইসলাম। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
তবে পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ এবং এর পেছনে সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের যে কারণ তুলে ধরা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
























