ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মামদানিকে নিয়ে জাতিসংঘে কঠোর বক্তব্য নেতানিয়াহুর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 60

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও দেশটির সেনাবাহিনীকে নিয়ে যারা ‘মিথ্যা’ প্রচার করছে, তারা জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে থাকুক কিংবা নিউইয়র্কের মেয়রের দপ্তরে—তাদের ‘লজ্জিত’ হওয়া উচিত। আল-জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মামদানিকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু বলেন, তাকে জাতিসংঘে আসা ও কথা বলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনোভাবেই তাকে নীরব করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, সত্যকেও নীরব করা যাবে না। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি; বরং দেশটি গণহত্যা ঠেকিয়েছে।

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শহরটির অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক আর তাদের পরিচিত সেই শহর নেই এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরটির পরিবর্তন ঘটেছে।

আরও পড়ুন  আহত হলেও বেঁচে আছেন খামেনি: দাবি নেতানিয়াহুর

এরপর মামদানির বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের সমর্থনের অভিযোগও তোলেন নেতানিয়াহু। তবে মামদানি প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন করেন—এমন দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় মামদানি বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অবস্থায় নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে অবশ্য মামদানি জানান, এমন গ্রেপ্তার কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তার নেই বলে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

ভাষণে ইরানকে নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই ইসরায়েল পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা কঠিন ছিল বলে স্বীকার করলেও তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ ছিল। তার দাবি, ইসরায়েল ওই পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গেও সুর মিলিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘গুঁড়িয়ে দিয়েছে’।

ইসরায়েল বর্তমানে ‘সাতটি ফ্রন্টে’ লড়াই করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি, ইরান এবং ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো অংশীদার ছিল না। নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের অনেক সদস্য বেরিয়ে যান। এ ঘটনাকে নিজের বক্তব্যে সমালোচনা করে কক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

মামদানিকে নিয়ে জাতিসংঘে কঠোর বক্তব্য নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও দেশটির সেনাবাহিনীকে নিয়ে যারা ‘মিথ্যা’ প্রচার করছে, তারা জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে থাকুক কিংবা নিউইয়র্কের মেয়রের দপ্তরে—তাদের ‘লজ্জিত’ হওয়া উচিত। আল-জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মামদানিকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু বলেন, তাকে জাতিসংঘে আসা ও কথা বলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনোভাবেই তাকে নীরব করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, সত্যকেও নীরব করা যাবে না। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি; বরং দেশটি গণহত্যা ঠেকিয়েছে।

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে শহরটির অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক আর তাদের পরিচিত সেই শহর নেই এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শহরটির পরিবর্তন ঘটেছে।

আরও পড়ুন  ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, নেতানিয়াহুর

এরপর মামদানির বিরুদ্ধে হামাসের যোদ্ধাদের সমর্থনের অভিযোগও তোলেন নেতানিয়াহু। তবে মামদানি প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন করেন—এমন দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় মামদানি বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অবস্থায় নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে অবশ্য মামদানি জানান, এমন গ্রেপ্তার কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তার নেই বলে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

ভাষণে ইরানকে নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই ইসরায়েল পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা কঠিন ছিল বলে স্বীকার করলেও তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ ছিল। তার দাবি, ইসরায়েল ওই পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গেও সুর মিলিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘গুঁড়িয়ে দিয়েছে’।

ইসরায়েল বর্তমানে ‘সাতটি ফ্রন্টে’ লড়াই করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি, ইরান এবং ইরাক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রশংসা করে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে ট্রাম্পের চেয়ে বড় কোনো অংশীদার ছিল না। নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের অনেক সদস্য বেরিয়ে যান। এ ঘটনাকে নিজের বক্তব্যে সমালোচনা করে কক্ষ ত্যাগকারী প্রতিনিধিদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।