ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তান- আফগানিস্তান: সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 189

ছবি: সংগৃহীত

 

 

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার এক বিশাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সংঘাতকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ: ৪ সদস্যসহ নিহত ১৯ 

লন্ডলভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, জনবল থেকে শুরু করে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সব ক্ষেত্রেই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের চেয়ে পাকিস্তান অনেক বেশি শক্তিশালী।

পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী চীনের মতো শক্তিশালী দেশের কারিগরি সহায়তায় ক্রমাগত আধুনিক হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা যেসব বিদেশি সরঞ্জাম জব্দ করেছিল, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে সেগুলোর ব্যবহারযোগ্যতা এখন দিন দিন কমছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবও তাদের সামরিক আধুনিকায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই দেশের সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের মোট সক্রিয় সেনাসদস্য ৬ লাখ ৬০ হাজার এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমান বাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১ লাখ ৭২ হাজার। বর্তমানে তারা এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

পাকিস্তান দেশটির কাছে ছয় হাজারেরও বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০ এর বেশি কামান বা গোলন্দাজ সরঞ্জাম রয়েছে। অপরদিকে, আফগানিস্তানের তালেবানদের কাছে সোভিয়েত আমলের কিছু মেইন ব্যাটেল ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যান থাকলেও সেগুলোর সঠিক সংখ্যা বা বর্তমান অবস্থা অজানা। এমনকি তাদের গোলন্দাজ বাহিনীর তথ্যও অস্পষ্ট।

আকাশপথে পাকিস্তানের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার (অ্যাটাক ও ট্রান্সপোর্টসহ) রয়েছে। এই ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের বর্তমানে কার্যকর কোনো বিমান বাহিনী নেই। মাত্র ৬টি পুরোনো বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার থাকলেও তার মধ্যে কয়টি ওড়ার উপযোগী, তা নিশ্চিত নয়।

পারমাণবিক সক্ষমতায় সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো পারমাণবিক অস্ত্র। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, যাদের ভাণ্ডারে বর্তমানে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। বিপরীতে, আফগানিস্তানের এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তান- আফগানিস্তান: সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?

আপডেট সময় ১১:২৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার এক বিশাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই সংঘাতকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন  যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করে না ইরান, আক্রমণের জবাবে প্রস্তুত: ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

লন্ডলভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, জনবল থেকে শুরু করে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সব ক্ষেত্রেই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের চেয়ে পাকিস্তান অনেক বেশি শক্তিশালী।

পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী চীনের মতো শক্তিশালী দেশের কারিগরি সহায়তায় ক্রমাগত আধুনিক হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের নৌ ও বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা যেসব বিদেশি সরঞ্জাম জব্দ করেছিল, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে সেগুলোর ব্যবহারযোগ্যতা এখন দিন দিন কমছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবও তাদের সামরিক আধুনিকায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই দেশের সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের মোট সক্রিয় সেনাসদস্য ৬ লাখ ৬০ হাজার এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমান বাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য রয়েছে।

অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১ লাখ ৭২ হাজার। বর্তমানে তারা এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

পাকিস্তান দেশটির কাছে ছয় হাজারেরও বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০ এর বেশি কামান বা গোলন্দাজ সরঞ্জাম রয়েছে। অপরদিকে, আফগানিস্তানের তালেবানদের কাছে সোভিয়েত আমলের কিছু মেইন ব্যাটেল ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যান থাকলেও সেগুলোর সঠিক সংখ্যা বা বর্তমান অবস্থা অজানা। এমনকি তাদের গোলন্দাজ বাহিনীর তথ্যও অস্পষ্ট।

আকাশপথে পাকিস্তানের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার (অ্যাটাক ও ট্রান্সপোর্টসহ) রয়েছে। এই ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের বর্তমানে কার্যকর কোনো বিমান বাহিনী নেই। মাত্র ৬টি পুরোনো বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার থাকলেও তার মধ্যে কয়টি ওড়ার উপযোগী, তা নিশ্চিত নয়।

পারমাণবিক সক্ষমতায় সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো পারমাণবিক অস্ত্র। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, যাদের ভাণ্ডারে বর্তমানে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। বিপরীতে, আফগানিস্তানের এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই।