ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
পরিবারের বক্তব্যে বাংলাদেশি শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো যায়? কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্ন জুয়ায় গ্রাহকের টাকা হারিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই চীন সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত দেখছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা, এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফুটপাত দখলের চেষ্টা হলে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ: ডিএনসিসি প্রশাসক দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে দুই স্টেশনে ট্রেন বন্ধ তানজিদের ৮৩ রানে দাপুটে শুরু বাংলাদেশের আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে: চিফ হুইপ ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

তালেবানের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
  • / 802

ছবি সংগৃহীত

 

আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আইসিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং দেশটির প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে নারী ও কিশোরীদের ওপর নির্যাতনমূলক নীতিমালার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে নারীদের প্রতি ধারাবাহিকভাবে দমন-পীড়নমূলক আচরণ শুরু হয়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, বিশেষ করে ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারীদের বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্র থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম কাবুল সফর

তালেবান কর্তৃপক্ষ এমনকি নারীসঙ্গী ছাড়া ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। জনসমক্ষে নারীদের কথা বলার বিষয়েও কঠোর নিয়ম চালু করা হয়। এসব নীতিমালাকে নারীদের প্রতি ‘সিস্টেমেটিক নিপীড়ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইসিসি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতে, এসব নীতির মাধ্যমে তালেবান শুধু আফগান সমাজে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেনি, বরং নারীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা হরণ করেছে। জাতিসংঘ এসব পদক্ষেপকে স্পষ্টভাবে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আইসিসির পরোয়ানার বিষয়ে তালেবান এক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, তারা এই আদালতকে স্বীকৃতি দেয় না এবং পরোয়ানাকে ‘একটি শত্রুতাপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তালেবান আরও দাবি করে, তারা ইসলামি আইন ও আফগান সংস্কৃতির আলোকে নারীদের অধিকার রক্ষা করছে।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব নীতি মূলত নারীদের সমাজের মূলধারার বাইরে ঠেলে দেয় এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতা থেকে বঞ্চিত করে।

তালেবান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইসিসির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকেই নয়, বরং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তালেবানের শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

আপডেট সময় ১১:৪৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

 

আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আইসিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং দেশটির প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে নারী ও কিশোরীদের ওপর নির্যাতনমূলক নীতিমালার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে নারীদের প্রতি ধারাবাহিকভাবে দমন-পীড়নমূলক আচরণ শুরু হয়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, বিশেষ করে ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নারীদের বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্র থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার আইসিসিতে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার: প্রেস সচিব

তালেবান কর্তৃপক্ষ এমনকি নারীসঙ্গী ছাড়া ভ্রমণের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। জনসমক্ষে নারীদের কথা বলার বিষয়েও কঠোর নিয়ম চালু করা হয়। এসব নীতিমালাকে নারীদের প্রতি ‘সিস্টেমেটিক নিপীড়ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইসিসি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতে, এসব নীতির মাধ্যমে তালেবান শুধু আফগান সমাজে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেনি, বরং নারীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা হরণ করেছে। জাতিসংঘ এসব পদক্ষেপকে স্পষ্টভাবে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আইসিসির পরোয়ানার বিষয়ে তালেবান এক প্রতিক্রিয়ায় জানায়, তারা এই আদালতকে স্বীকৃতি দেয় না এবং পরোয়ানাকে ‘একটি শত্রুতাপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তালেবান আরও দাবি করে, তারা ইসলামি আইন ও আফগান সংস্কৃতির আলোকে নারীদের অধিকার রক্ষা করছে।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব নীতি মূলত নারীদের সমাজের মূলধারার বাইরে ঠেলে দেয় এবং একটি প্রজন্মকে শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতা থেকে বঞ্চিত করে।

তালেবান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইসিসির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকেই নয়, বরং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।