ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে নিন্দা প্রকাশ যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 649

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের কড়া সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন। বুধবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “গাজা পরিস্থিতি এখনো চরম উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার যে পদক্ষেপ চলছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নেদারল্যান্ডসের হেগে ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করায় তার অনুপস্থিতিতে সাপ্তাহিক প্রাইম মিনিস্টারস কোয়েশ্চনস সেশনে সরকারের পক্ষে বক্তব্য দেন রায়নার। তিনি বলেন, “গাজার বর্তমান অবস্থা শুধু আমাদের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় এবং সেগুলো কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করছে না।”

আরও পড়ুন  গাজা হত্যাযজ্ঞে ক্ষুব্ধ ইতালিয়ানরা, রোমে ১৮ এপ্রিল মহাসমাবেশের ডাক

তিনি আরও বলেন, “গাজায় হামলা বাড়ানো, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা দেওয়া সবকিছুরই আমরা স্পষ্টভাবে বিরোধিতা করি। এই ধরণের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।”

এসময় একজন এমপির প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলে ব্রিটেনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানি অব্যাহত রাখা নিয়ে রায়নার বলেন, “যুক্তরাজ্য সরাসরি ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি করে না। তবে যেকোনো সামরিক রপ্তানিতে আমাদের দেশের অবস্থান হলো তা যেন আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি না করে। এই বিষয়ে সরকার সব সময় সতর্ক।”

গাজায় চলমান সংকটে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে রায়নার বলেন, “মানবিক সহায়তা যেন নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সংঘাত নিরসনের পরিবর্তে বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না।”

উল্লেখ্য, ইসরায়েলি বাহিনী সম্প্রতি গাজায় নতুন করে অভিযান চালাতে শুরু করলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়ে যায়। এতে বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করলো তারা শান্তির পক্ষে এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে নিন্দা প্রকাশ যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০২:১৩:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের কড়া সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন। বুধবার হাউস অব কমন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “গাজা পরিস্থিতি এখনো চরম উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার যে পদক্ষেপ চলছে, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নেদারল্যান্ডসের হেগে ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করায় তার অনুপস্থিতিতে সাপ্তাহিক প্রাইম মিনিস্টারস কোয়েশ্চনস সেশনে সরকারের পক্ষে বক্তব্য দেন রায়নার। তিনি বলেন, “গাজার বর্তমান অবস্থা শুধু আমাদের নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় এবং সেগুলো কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করছে না।”

আরও পড়ুন  ধ্বংসের ছায়ার মাঝেই পবিত্র মাহে রমজানের আগমনী প্রস্তুতি নিচ্ছে গাজাবাসী 

তিনি আরও বলেন, “গাজায় হামলা বাড়ানো, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং মানবিক সহায়তা সরবরাহে বাধা দেওয়া সবকিছুরই আমরা স্পষ্টভাবে বিরোধিতা করি। এই ধরণের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।”

এসময় একজন এমপির প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলে ব্রিটেনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ রপ্তানি অব্যাহত রাখা নিয়ে রায়নার বলেন, “যুক্তরাজ্য সরাসরি ইসরায়েলকে অস্ত্র বিক্রি করে না। তবে যেকোনো সামরিক রপ্তানিতে আমাদের দেশের অবস্থান হলো তা যেন আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি না করে। এই বিষয়ে সরকার সব সময় সতর্ক।”

গাজায় চলমান সংকটে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে রায়নার বলেন, “মানবিক সহায়তা যেন নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারে, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সংঘাত নিরসনের পরিবর্তে বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়ে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না।”

উল্লেখ্য, ইসরায়েলি বাহিনী সম্প্রতি গাজায় নতুন করে অভিযান চালাতে শুরু করলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়ে যায়। এতে বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট করলো তারা শান্তির পক্ষে এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে আপসহীন।