ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধে আইন সংশোধনে উদ্বেগ জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 163

ছবি সংগৃহীত

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন উদ্যোগ সংগঠনের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার স্বাধীনতাকে অনৈতিকভাবে সীমিত করতে পারে।

সোমবার (১৬ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগের কথা জানান ফলকার তুর্ক।

আরও পড়ুন  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: লাইফলাইন না কি ময়লার ভাগাড়?

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি অনুপ্রাণিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের মাধ্যমে অগ্রগতির চেষ্টা করছে। আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যেন তারা অর্থবহ সংস্কারের দিকে এগিয়ে যায় এবং অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নিশ্চিত করে।”

তবে হাইকমিশনার তুর্ক স্পষ্ট করে দেন যে, রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আইনি কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি মনে করেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করবে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে।

এছাড়াও, ফলকার তুর্ক বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার অফিস দ্রুত চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায়। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে।”

জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র, সংলাপ ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মনোযোগের প্রতিফলন দেখা যায়। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধে আইন সংশোধনে উদ্বেগ জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের

আপডেট সময় ১২:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন উদ্যোগ সংগঠনের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার স্বাধীনতাকে অনৈতিকভাবে সীমিত করতে পারে।

সোমবার (১৬ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগের কথা জানান ফলকার তুর্ক।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-চীন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রধান

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি অনুপ্রাণিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপের মাধ্যমে অগ্রগতির চেষ্টা করছে। আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি যেন তারা অর্থবহ সংস্কারের দিকে এগিয়ে যায় এবং অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নিশ্চিত করে।”

তবে হাইকমিশনার তুর্ক স্পষ্ট করে দেন যে, রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আইনি কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো পদক্ষেপ গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি মনে করেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করবে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে।

এছাড়াও, ফলকার তুর্ক বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার অফিস দ্রুত চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায়। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপ নেবে।”

জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র, সংলাপ ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মনোযোগের প্রতিফলন দেখা যায়। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।