ঢাকা ০১:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে: শফিকুর রহমান ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে বিপাকে ট্রাম্প টিকটকার রাকিব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে চলে কিলিং মিশন

গাজায় সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় নিহত আরোও ৩৬ ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 175

ছবি সংগৃহীত

 

গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় খাদ্যের খোঁজে সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ জন, আহত হয়েছেন আরও ২০০-এর বেশি। এই হামলাকে ‘অমানবিক ও উদ্দেশ্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকালবেলা ক্ষুধার তাড়নায় অসহায় মানুষগুলো সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই ড্রোন ও ট্যাংক থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয় তাদের ওপর। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধও ছিলেন যাদের হাতে ছিল কেবল খাবারের ব্যাগ।

আরও পড়ুন  ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের উদ্দেশে ইসরায়েলি বন্দির চিঠি

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা কেবল সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিলিস্তিনিরা বলছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়ে মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার পেছনে ইসরাইলি বাহিনীর এই সহিংসতা একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে তারা শান্তি নয়, সংঘাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।

এদিকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত খাদ্য সহায়তা পদ্ধতি নিয়েও উঠছে সমালোচনার ঝড়। জাতিসংঘ ও একাধিক আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এই ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর মধ্যে সহায়তা বিতরণ মানবিক সহায়তার নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করছে এবং মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

গাজায় চলমান মানবিক সংকট আরও গভীরতর হচ্ছে প্রতিদিনই। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার ঘাটতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকা এখন এক যুদ্ধ। এর মধ্যেই বারবার সহায়তা নিতে গিয়ে এমন প্রাণঘাতী হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক নজির স্থাপন করেছে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি দেশ। প্রথমবারের মতো তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইলের দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীর ওপর। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে। যুক্তরাজ্যে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখানকার তাদের সম্পদও জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন এবং গাজা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে এই নিষেধাজ্ঞায় সায় দিয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক উসকানির দায়ে ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

গাজা উপত্যকায় এভাবে বারবার সহায়তা নিতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়া মানুষগুলোর জন্য এখন দরকার জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ নয়তো মানবতার এই ট্র্যাজেডি থামানো কঠিন হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরাইলি হামলায় নিহত আরোও ৩৬ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১২:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

 

গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় খাদ্যের খোঁজে সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৬ জন, আহত হয়েছেন আরও ২০০-এর বেশি। এই হামলাকে ‘অমানবিক ও উদ্দেশ্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকালবেলা ক্ষুধার তাড়নায় অসহায় মানুষগুলো সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করেই ড্রোন ও ট্যাংক থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয় তাদের ওপর। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধও ছিলেন যাদের হাতে ছিল কেবল খাবারের ব্যাগ।

আরও পড়ুন  অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা কেবল সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিলিস্তিনিরা বলছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালিয়ে মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার পেছনে ইসরাইলি বাহিনীর এই সহিংসতা একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে তারা শান্তি নয়, সংঘাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।

এদিকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত খাদ্য সহায়তা পদ্ধতি নিয়েও উঠছে সমালোচনার ঝড়। জাতিসংঘ ও একাধিক আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা এই ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর মধ্যে সহায়তা বিতরণ মানবিক সহায়তার নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করছে এবং মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

গাজায় চলমান মানবিক সংকট আরও গভীরতর হচ্ছে প্রতিদিনই। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার ঘাটতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকা এখন এক যুদ্ধ। এর মধ্যেই বারবার সহায়তা নিতে গিয়ে এমন প্রাণঘাতী হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক নজির স্থাপন করেছে যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি দেশ। প্রথমবারের মতো তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরাইলের দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীর ওপর। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে। যুক্তরাজ্যে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সেখানকার তাদের সম্পদও জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন এবং গাজা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে এই নিষেধাজ্ঞায় সায় দিয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক উসকানির দায়ে ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রতিফলন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

গাজা উপত্যকায় এভাবে বারবার সহায়তা নিতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়া মানুষগুলোর জন্য এখন দরকার জরুরি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ নয়তো মানবতার এই ট্র্যাজেডি থামানো কঠিন হবে।