ঢাকা ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাফায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলের গুলি, নিহত অন্তত ৩, নিখোঁজ ৭

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 640

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজার রাফা শহরে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে জড়ো হওয়া বেসামরিক নাগরিকদের উপর প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সাতজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার, ২৭ মে।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি বিতর্কিত সংগঠন ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে। যদিও এই সংস্থা এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন  মাদারীপুরের ডাসারে নিখোঁজের একদিন পর শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা বিতরণ কেন্দ্রের বাইরে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ঘটনার ভিডিও ও ছবি দেখে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা একে ‘হৃদয়বিদারক’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র জানান, কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের জন্য নির্দিষ্ট একটি মানবিক স্থানে এমন সহিংসতা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, “দখলদার বাহিনী ক্ষুধার্ত বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালিয়েছে। যাদেরকে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে সেখানে আনা হয়েছিল।” অফিসটি আরও বলে, “আজ রাফায় যা ঘটেছে তা একটি পরিকল্পিত গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধ।”

এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ‘ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি গাজায় অপুষ্টির কোনও লক্ষণ নেই বলেও দাবি করেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেউই এমন একজন ক্ষীণদেহী মানুষও দেখাতে পারবে না, যা প্রমাণ করে গাজায় খাদ্য সংকট নেই।”

অবরোধের কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে মানবিক সংকটে ভোগা গাজা উপত্যকার জনগণের জন্য এই হামলা নতুন করে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

সূত্র: আল জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

রাফায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলের গুলি, নিহত অন্তত ৩, নিখোঁজ ৭

আপডেট সময় ১১:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

গাজার রাফা শহরে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে জড়ো হওয়া বেসামরিক নাগরিকদের উপর প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সাতজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার, ২৭ মে।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি বিতর্কিত সংগঠন ‘গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে। যদিও এই সংস্থা এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন  জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১

ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা বিতরণ কেন্দ্রের বাইরে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ঘটনার ভিডিও ও ছবি দেখে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা একে ‘হৃদয়বিদারক’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র জানান, কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের জন্য নির্দিষ্ট একটি মানবিক স্থানে এমন সহিংসতা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, “দখলদার বাহিনী ক্ষুধার্ত বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালিয়েছে। যাদেরকে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে সেখানে আনা হয়েছিল।” অফিসটি আরও বলে, “আজ রাফায় যা ঘটেছে তা একটি পরিকল্পিত গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধ।”

এদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ‘ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি গাজায় অপুষ্টির কোনও লক্ষণ নেই বলেও দাবি করেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কেউই এমন একজন ক্ষীণদেহী মানুষও দেখাতে পারবে না, যা প্রমাণ করে গাজায় খাদ্য সংকট নেই।”

অবরোধের কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে মানবিক সংকটে ভোগা গাজা উপত্যকার জনগণের জন্য এই হামলা নতুন করে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

সূত্র: আল জাজিরা