০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প: বিরোধী দেশে শুল্ক আরোপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় বিমান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাজা প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক কমিটি গঠন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন বিবেচনা করছে জার্মানি চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর শুল্ক কমালো কানাডা খালে পড়ে ট্রাক, পাকিস্তানে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু সিলেটে তিন বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে ইসলামিক ঐক্য গড়ছে ইরান-পাকিস্তান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 123

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে একসাথে কাজ করছে ইরান ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরান সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের সময় তিনি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কখনোই তাদের ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।” একইসাথে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধে ইরান ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

পরে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, “গাজায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক।” এর জবাবে খামেনি মন্তব্য করেন, “ইরান ও পাকিস্তান যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলি অপরাধ রুখে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সফর এবং বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো)-এর কার্যক্রম জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

এই সফরকে ঘিরে ইসলামি বিশ্বে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাজা সংকটে যৌথ অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলেই বিশ্লেষকদের মত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে ইসলামিক ঐক্য গড়ছে ইরান-পাকিস্তান

আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে একসাথে কাজ করছে ইরান ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরান সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের সময় তিনি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কখনোই তাদের ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।” একইসাথে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধে ইরান ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

পরে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, “গাজায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক।” এর জবাবে খামেনি মন্তব্য করেন, “ইরান ও পাকিস্তান যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলি অপরাধ রুখে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সফর এবং বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো)-এর কার্যক্রম জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

এই সফরকে ঘিরে ইসলামি বিশ্বে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাজা সংকটে যৌথ অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলেই বিশ্লেষকদের মত।