ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে ইসলামিক ঐক্য গড়ছে ইরান-পাকিস্তান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 166

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে একসাথে কাজ করছে ইরান ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরান সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের সময় তিনি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কখনোই তাদের ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।” একইসাথে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আরও পড়ুন  কাশ্মীরে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে সরকারি জেলা কমিশনার নিহত: মুখ্যমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধে ইরান ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

পরে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, “গাজায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক।” এর জবাবে খামেনি মন্তব্য করেন, “ইরান ও পাকিস্তান যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলি অপরাধ রুখে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সফর এবং বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো)-এর কার্যক্রম জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

এই সফরকে ঘিরে ইসলামি বিশ্বে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাজা সংকটে যৌথ অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলেই বিশ্লেষকদের মত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখতে ইসলামিক ঐক্য গড়ছে ইরান-পাকিস্তান

আপডেট সময় ১১:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগে একসাথে কাজ করছে ইরান ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ইরান সফরে যান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরের সময় তিনি তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

বৈঠকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ। তিনি বলেন, “পাকিস্তান কখনোই তাদের ভূখণ্ডকে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে না।” একইসাথে দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আরও পড়ুন  ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে ২ দিন ধরে গোলাগুলি চলছে

তেহরানে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা বন্ধে ইরান ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের নির্লজ্জ নীরবতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”

পরে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, “গাজায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবতার ওপর এক গভীর কলঙ্ক।” এর জবাবে খামেনি মন্তব্য করেন, “ইরান ও পাকিস্তান যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েলি অপরাধ রুখে দেওয়ার মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সফর এবং বৈঠকগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে দুই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং ইকোনমিক কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ইকো)-এর কার্যক্রম জোরদারে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

এই সফরকে ঘিরে ইসলামি বিশ্বে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গাজা সংকটে যৌথ অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো বলেই বিশ্লেষকদের মত।