ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

জেনিনে কূটনীতিক দলের ওপর ইসরায়েলি গুলি, বিশ্বজুড়ে নিন্দা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫
  • / 551

ছবি সংগৃহীত

 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গিয়ে এই হামলার মুখে পড়েন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দেশ। খবর আল-জাজিরা।

বুধবার (২১ মে) প্রতিনিধি দলটি ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ অভিযানের প্রেক্ষাপটে জেনিনে চলমান মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণে যান। গত চার মাস ধরে সেখানে অসংখ্য ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দলটি অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্যপথে যাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে গুলি চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিতে কেউ আহত হয়নি।

আরও পড়ুন  ইরানের ৩০টি জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলের হামলায় অসন্তোষ যুক্তরাষ্ট্রের: দাবি মার্কিন গণমাধ্যমের

ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনীর বিবৃতি। পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি সিভিল প্রশাসনের কমান্ডার সেনা কর্মকর্তাদের কূটনীতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক হামদা জানান, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের শিকার হওয়া যে কারো জন্যই সম্ভাব্য। তিনি আরও বলেন, জেনিন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কূটনীতিক দলটি সংবাদমাধ্যমকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন এই সময় হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নেন। ভিডিওটি আল-জাজিরার ফ্যাক্টচেক সংস্থা ‘সানাদ’ যাচাই করে জানিয়েছে, সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দুই ইসরায়েলি সেনা বন্দুক তাক করে রেখেছে প্রতিনিধি দলের দিকে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্রাণ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ওই সময় ২০ জন কূটনীতিক ব্রিফিংয়ে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরাও বলেন, কেন গুলি চালানো হয়েছে তা অজানা, তবে কেউ আহত হয়নি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সংগঠিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইউরোপ ও আরব বিশ্বের নেতারাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারোট জানান, এ ঘটনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অগ্রহণযোগ্য এবং এর জবাবদিহি চাই।” ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসও এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জেনিনে কূটনীতিক দলের ওপর ইসরায়েলি গুলি, বিশ্বজুড়ে নিন্দা

আপডেট সময় ১১:০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

 

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গিয়ে এই হামলার মুখে পড়েন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য দেশ। খবর আল-জাজিরা।

বুধবার (২১ মে) প্রতিনিধি দলটি ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ অভিযানের প্রেক্ষাপটে জেনিনে চলমান মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণে যান। গত চার মাস ধরে সেখানে অসংখ্য ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দলটি অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্যপথে যাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে গুলি চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিতে কেউ আহত হয়নি।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কার্যক্রম বন্ধ

ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে বের করতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনীর বিবৃতি। পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি সিভিল প্রশাসনের কমান্ডার সেনা কর্মকর্তাদের কূটনীতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক হামদা জানান, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের শিকার হওয়া যে কারো জন্যই সম্ভাব্য। তিনি আরও বলেন, জেনিন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কূটনীতিক দলটি সংবাদমাধ্যমকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন এই সময় হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নেন। ভিডিওটি আল-জাজিরার ফ্যাক্টচেক সংস্থা ‘সানাদ’ যাচাই করে জানিয়েছে, সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে দুই ইসরায়েলি সেনা বন্দুক তাক করে রেখেছে প্রতিনিধি দলের দিকে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ত্রাণ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ওই সময় ২০ জন কূটনীতিক ব্রিফিংয়ে অংশ নিচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরাও বলেন, কেন গুলি চালানো হয়েছে তা অজানা, তবে কেউ আহত হয়নি।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সংগঠিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইউরোপ ও আরব বিশ্বের নেতারাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারোট জানান, এ ঘটনায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অগ্রহণযোগ্য এবং এর জবাবদিহি চাই।” ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসও এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।