ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের বিশাখাপত্তনমে মন্দিরের দেয়াল ধসে ৮ জনের মৃত্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 155

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে চন্দনোৎসব চলাকালীন শ্রী বরাহ লক্ষ্মী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরের একটি প্রাচীর ধসে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোরে সিংহচলম পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরে নবনির্মিত একটি ২০ ফুট দীর্ঘ দেয়াল ধসে অন্তত ৮ জন ভক্ত নিহত হন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বার্ষিক চন্দনোৎসব উপলক্ষে ভোর থেকেই হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে ভিড় জমিয়েছিলেন দেবতার ‘নিজারূপ’ দর্শনের জন্য। এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের উপরে আচমকা দেয়ালটি ভেঙে পড়ে।

আরও পড়ুন  জামায়াতে ইসলামীর আমির: আপোষের পরিবর্তে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিলেন জামায়াত নেতারা

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় প্রশাসন। দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয় নিরাপত্তার জন্য।

অন্ধ্রপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গলাপুদি অনিতা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান, “রাতে প্রবল বৃষ্টির ফলে দেয়ালটি স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছিল। ভক্তদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপের কারণে তা ভেঙে পড়ে।” তিনি দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন।

ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ ৩০০ টাকা মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে এই বিশেষ ‘নিজারূপ দর্শনের’ ব্যবস্থা করেছিল। প্রতি বছর চন্দনোৎসবের সময় দেবতা শ্রী বরাহ লক্ষ্মী নৃসিংহ স্বামী তার আসল রূপে দর্শন দেন ভক্তদের। সারা বছর প্রতিমাটি চন্দনের প্রলেপ দিয়ে আচ্ছাদিত রাখা হয় এবং এই বিশেষ দিনে সেই প্রলেপ সরিয়ে মূল রূপ উন্মোচন করা হয়। এই শুভ মুহূর্ত উপলক্ষে ভক্তদের ভিড় থাকে উপচে পড়া।

এই বছরের উৎসবও ছিল ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ভক্তি ও শ্রদ্ধার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ম্লান হয়ে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে দেয়াল নির্মাণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং উৎসবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের বিশাখাপত্তনমে মন্দিরের দেয়াল ধসে ৮ জনের মৃত্য

আপডেট সময় ০৩:২০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

 

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে চন্দনোৎসব চলাকালীন শ্রী বরাহ লক্ষ্মী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরের একটি প্রাচীর ধসে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোরে সিংহচলম পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দিরে নবনির্মিত একটি ২০ ফুট দীর্ঘ দেয়াল ধসে অন্তত ৮ জন ভক্ত নিহত হন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বার্ষিক চন্দনোৎসব উপলক্ষে ভোর থেকেই হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে ভিড় জমিয়েছিলেন দেবতার ‘নিজারূপ’ দর্শনের জন্য। এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভক্তদের উপরে আচমকা দেয়ালটি ভেঙে পড়ে।

আরও পড়ুন  নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ভেঙে প্রাণ গেল দুই জনের

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় প্রশাসন। দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয় নিরাপত্তার জন্য।

অন্ধ্রপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গলাপুদি অনিতা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান, “রাতে প্রবল বৃষ্টির ফলে দেয়ালটি স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়েছিল। ভক্তদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপের কারণে তা ভেঙে পড়ে।” তিনি দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন।

ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক শোকবার্তায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি ঘোষণা দেন, নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দির কর্তৃপক্ষ ৩০০ টাকা মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে এই বিশেষ ‘নিজারূপ দর্শনের’ ব্যবস্থা করেছিল। প্রতি বছর চন্দনোৎসবের সময় দেবতা শ্রী বরাহ লক্ষ্মী নৃসিংহ স্বামী তার আসল রূপে দর্শন দেন ভক্তদের। সারা বছর প্রতিমাটি চন্দনের প্রলেপ দিয়ে আচ্ছাদিত রাখা হয় এবং এই বিশেষ দিনে সেই প্রলেপ সরিয়ে মূল রূপ উন্মোচন করা হয়। এই শুভ মুহূর্ত উপলক্ষে ভক্তদের ভিড় থাকে উপচে পড়া।

এই বছরের উৎসবও ছিল ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ভক্তি ও শ্রদ্ধার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ম্লান হয়ে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে দেয়াল নির্মাণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং উৎসবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।