মিয়ানমার সীমান্তের গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু
- আপডেট সময় ০৫:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 17
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার ১২ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনান আর নেই। টানা ২৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকেরা হুজাইফাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার চাচা শওকত আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই মিয়ানমারের দিক থেকে আসা একটি গুলি হুজাইফার মাথায় লাগে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি মস্তিষ্কের গভীরে এমনভাবে ঢুকে যায় যে তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জানুয়ারি তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
সীমান্তে সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মংডু টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নিতে সেখানে বিমান ও ড্রোন হামলা জোরদার করা হয়েছে।
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। নিয়মিত গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। অনেক সময় গুলি ও মর্টার শেলের অংশ এসে পড়ছে ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের এবং নাফ নদীতে। হুজাইফার মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
শোক ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
হুজাইফার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্তে বসবাস যেন প্রতিদিন মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাটছে। তারা অবিলম্বে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।




















