অপারেশন ডেভিল হান্ট: ১৮তম দিনে দেশজুড়ে অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৭৮ জন
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ চলমান থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে একাধিক ডাকাত গ্রেপ্তার হয়েছে।
গতকাল বুধবার অভিযানের ১৮তম দিনে সারাদেশে ৬৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিনে আরও এক হাজার ১২ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বিশেষ অভিযানের ৬৭৮ জন অন্তর্ভুক্ত। অভিযানে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৩টায় দেবীদ্বার থানা পুলিশের টহল দল একটি নম্বরবিহীন পিকআপ ভ্যান চেক করার সময় তারা পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয় মৎস্য চাষিদের সহযোগিতায় খলিলুর রহমান শেখ, জহিরুল ইসলাম ও শাহ আলম নামে তিনজন ধরা পড়ে, যাদের বিরুদ্ধে একাধিক জেলা ও থানায় বহু মামলা রয়েছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত মোস্তাকিমসহ ১২ জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় আটজন এবং জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় চার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। মেলান্দহের ঘটনায় আটকরা সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাতজন নেতাকর্মীকে এবং রাজশাহীতে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা গোলাম রুবায়েত মিন্টুকে আটক করেছে পুলিশ।
শেরপুরের নকলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও উরফা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরে আলম তালুকদার ভুট্টোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ দমনে অপারেশন ডেভিল হান্ট চলবে।’