ঢাকা ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ভোর থেকে শুরু রান্না, প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার আয়োজন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 196

ছবি সংগৃহীত

 

ভোরের আলো ফুটতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা। ফজরের নামাজ শেষ হতেই শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ। লক্ষ্য একটাই প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের জন্য ইফতার প্রস্তুত করা।

ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন প্রাঙ্গণে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন এমন আয়োজন করা হয়। বড় বড় কড়াইয়ে ছোলা রান্না, ডেকে ডেকে ফিরনি তৈরি, আর সারি সারি সিঙ্গারা ভাজার দৃশ্য সব মিলিয়ে সকাল থেকেই জমে ওঠে রান্নাঘর।

আরও পড়ুন  নতুন বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার্থীরাই হবে প্রথম সারির কারিগর: শিক্ষা উপদেষ্টা

২৫ বছর ধরে ইফতার প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি আমানত আলী বলেন, প্রতিদিন ১৯০ কেজি ছোলা বানানো হয়। ১৪৪ কেজি সুজি, ১৫০ কেজি চিনি ও ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে সাত ডেক ফিরনি তৈরি করা হয়। ভোর থেকে কাজ শুরু করি, তিনটার মধ্যে কাজ শেষ করতে হয়। এখান থেকে যে পারিশ্রমিক পাই, তাতেই আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে চলে। পীর সাহেবের দোয়া আছে আমাদের সঙ্গে।

সিঙ্গারা তৈরির কাজে নিয়োজিত মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি সহ ৫-৬ জন সিঙ্গারা বানানোর দায়িত্বে আছি। ভোর ৬টা থেকে কাজ শুরু হয়। ১৮০ কেজি আলু কাটা হয়, ১৫৪ কেজি ময়দার খামির তৈরি করা হয়। সীমিত পারিশ্রমিক পাই, কিন্তু এখানে কাজ করে শান্তি পাই। অলির দরবারে কাজ করতে পারা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক প্লেট সাজানো ও খাবার বিতরণে অংশ নেন। খেজুর, কলা, চিড়া, ছোলা ও ফিরনি দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি ইফতার প্লেট।

২০ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, সুলতানুল আওলিয়া, কুতুবুল আকতাব, গাউসে জামান, আরেফ বিল্লাহ, হযরত শাহ্-সূফী আলহাজ খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ (র.)-এর জন্মভূমি নলতা শরীফে প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার আয়োজন করা হয়। ২৫০ থেকে ৩০০ ভলান্টিয়ার প্রতিদিন কাজ করেন। আমি প্রায় ২০-২১ বছর ধরে এই সেবায় যুক্ত আছি।

অনেক বছর ধরে এখানে ইফতার করছেন আনসার আলী। তিনি বলেন, এখানে এসে শান্তি লাগে। নামাজ-কালাম আর ইফতার মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে ইফতার করি। ৬-৭ রকম ইফতারি দেওয়া হয়।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও নলতা আহ্ছানিয়া মিশন প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে। প্রথম রোজা থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে দোয়া করেন। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দাতাদের অনুদানে আসে। আমরা শুধু ব্যবস্থাপনা করি। প্রায় ৫০ জন বাবুর্চি ও ২৫০ ভলান্টিয়ার নিরলসভাবে কাজ করেন।

জানা যায়, সাধক খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ (র.) ১৯৩৫ সালে নলতায় এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে স্থানীয়রা নিজ নিজ বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে এক সঙ্গে ইফতার করতেন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট আয়োজন আজ ৬ হাজার মানুষের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

প্রথম রোজা থেকে শুরু হওয়া এই ইফতার মাহফিল চলবে পুরো রমজানজুড়ে। নলতায় প্রতিদিনের এই আয়োজন যেন একতার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভোর থেকে শুরু রান্না, প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার আয়োজন

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ভোরের আলো ফুটতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা। ফজরের নামাজ শেষ হতেই শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ। লক্ষ্য একটাই প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের জন্য ইফতার প্রস্তুত করা।

ঐতিহ্যবাহী নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন প্রাঙ্গণে রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন এমন আয়োজন করা হয়। বড় বড় কড়াইয়ে ছোলা রান্না, ডেকে ডেকে ফিরনি তৈরি, আর সারি সারি সিঙ্গারা ভাজার দৃশ্য সব মিলিয়ে সকাল থেকেই জমে ওঠে রান্নাঘর।

আরও পড়ুন  ফিলিস্তিনিদের পাশে সবসময় থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

২৫ বছর ধরে ইফতার প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি আমানত আলী বলেন, প্রতিদিন ১৯০ কেজি ছোলা বানানো হয়। ১৪৪ কেজি সুজি, ১৫০ কেজি চিনি ও ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে সাত ডেক ফিরনি তৈরি করা হয়। ভোর থেকে কাজ শুরু করি, তিনটার মধ্যে কাজ শেষ করতে হয়। এখান থেকে যে পারিশ্রমিক পাই, তাতেই আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে চলে। পীর সাহেবের দোয়া আছে আমাদের সঙ্গে।

সিঙ্গারা তৈরির কাজে নিয়োজিত মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি সহ ৫-৬ জন সিঙ্গারা বানানোর দায়িত্বে আছি। ভোর ৬টা থেকে কাজ শুরু হয়। ১৮০ কেজি আলু কাটা হয়, ১৫৪ কেজি ময়দার খামির তৈরি করা হয়। সীমিত পারিশ্রমিক পাই, কিন্তু এখানে কাজ করে শান্তি পাই। অলির দরবারে কাজ করতে পারা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক প্লেট সাজানো ও খাবার বিতরণে অংশ নেন। খেজুর, কলা, চিড়া, ছোলা ও ফিরনি দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি ইফতার প্লেট।

২০ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, সুলতানুল আওলিয়া, কুতুবুল আকতাব, গাউসে জামান, আরেফ বিল্লাহ, হযরত শাহ্-সূফী আলহাজ খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ (র.)-এর জন্মভূমি নলতা শরীফে প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা রমজান থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের ইফতার আয়োজন করা হয়। ২৫০ থেকে ৩০০ ভলান্টিয়ার প্রতিদিন কাজ করেন। আমি প্রায় ২০-২১ বছর ধরে এই সেবায় যুক্ত আছি।

অনেক বছর ধরে এখানে ইফতার করছেন আনসার আলী। তিনি বলেন, এখানে এসে শান্তি লাগে। নামাজ-কালাম আর ইফতার মিলিয়ে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে ইফতার করি। ৬-৭ রকম ইফতারি দেওয়া হয়।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও নলতা আহ্ছানিয়া মিশন প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে। প্রথম রোজা থেকে ৩০ রমজান পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে দোয়া করেন। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ দেশ-বিদেশের ভক্ত ও দাতাদের অনুদানে আসে। আমরা শুধু ব্যবস্থাপনা করি। প্রায় ৫০ জন বাবুর্চি ও ২৫০ ভলান্টিয়ার নিরলসভাবে কাজ করেন।

জানা যায়, সাধক খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ (র.) ১৯৩৫ সালে নলতায় এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে স্থানীয়রা নিজ নিজ বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে এক সঙ্গে ইফতার করতেন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট আয়োজন আজ ৬ হাজার মানুষের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

প্রথম রোজা থেকে শুরু হওয়া এই ইফতার মাহফিল চলবে পুরো রমজানজুড়ে। নলতায় প্রতিদিনের এই আয়োজন যেন একতার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।